যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবসরকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় ঋণ এই মাসে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে, অন্যদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থা চরম আর্থিক সংকটের মুখে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ২০৩২ সালের মধ্যে এই ব্যবস্থাটি কার্যত দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। এর ফলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অবসরকালীন সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।

কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (CBO) ২০২৩ সালের এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে বাধ্যতামূলক ব্যয়ের যে বৃদ্ধি ঘটবে, তার ৮১ শতাংশই হবে সোশ্যাল সিকিউরিটি এবং মেডিকেয়ারের পেছনে। শুধু ২০২৬ সালেই প্রস্তাবিত ৩৬২ বিলিয়ন ডলারের বাধ্যতামূলক ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক এই দুটি খাতের জন্য নির্ধারিত। এর পাশাপাশি ঋণের সুদের বোঝা আরও বাড়ছে; CBO-র প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নিট ফেডারেল সুদের খরচ ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে তা ২.১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। অর্থাৎ, নতুন বিনিয়োগের বদলে সরকার এখন আগের ঘাটতি মেটাতে ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই ব্যস্ত।

এই আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপক পার্থক্য দেখা দিচ্ছে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, জেন-জেড (Gen Z) প্রজন্মের মাত্র ৩৪ শতাংশ বিশ্বাস করে যে তারা অবসরে যাওয়ার সময় সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থা টিকে থাকবে। ২০২৬ সালের এক বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, তরুণদের ৭৯ শতাংশ মনে করে ভবিষ্যতে তাদের প্রাপ্য সুবিধা হ্রাস করা হবে। মূলত সোশ্যাল সিকিউরিটি একটি 'পে-অ্যাজ-ইউ-গো' (pay-as-you-go) প্রোগ্রাম, যেখানে বর্তমান কর্মীদের থেকে সংগৃহীত করের টাকা বর্তমান অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা হিসেবে দেওয়া হয়। ফলে বর্তমান কর্মীদের আয়ের একটি অংশ পরোক্ষভাবে 'বেবি বুমার্স' প্রজন্মের সুবিধা নিশ্চিত করছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৭ সালে অবসর নেওয়া একজন মধ্যম আয়ের কর্মী তার জীবনকালে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার সুবিধা পাবেন, যেখানে তার এবং তার নিয়োগকর্তার মোট অবদান হবে ২ লাখ ডলারের কম। অর্থাৎ, বিনিয়োগের তুলনায় প্রাপ্ত সুবিধা দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে এই ব্যবস্থাটি মূলত মিলেনিয়াল এবং জেন-এক্স প্রজন্মের ওপর নির্ভরশীল।

২০২৬ সালের ট্রাস্টি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ওল্ড-এজ অ্যান্ড সারভাইভার্স ইন্স্যুরেন্স ট্রাস্ট ফান্ড শেষ হয়ে যাবে। এরপর থেকে কেবল বর্তমান আয় দিয়ে নির্ধারিত সুবিধার ৭৮ শতাংশ প্রদান করা সম্ভব হবে। কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিলে ২০৩৪ সাল নাগাদ এই হার ৮৩ শতাংশে দাঁড়াবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা হ্রাস পাবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় 'কমিটি ফর এ রেসপন্সিবল ফেডারেল বাজেট' (CRFB) একটি 'সিক্স ফিগার লিমিট' বা ছয় অঙ্কের সীমারেখার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, বিবাহিত দম্পতিদের বার্ষিক সুবিধা ১ লাখ ডলার এবং একক অবসরপ্রাপ্তদের জন্য ৫ হাজার ডলারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে। এটি মূলত শীর্ষ ০.০৫% অত্যন্ত ধনী পরিবারকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে, যাদের গড় নিট সম্পদ ৬৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

আর্থিক বৈষম্যের বিষয়টি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে সম্পদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে। ভিসা বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক ইনসাইটসের তথ্যমতে, বেবি বুমার্সদের মোট সম্পদ ৯৩ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও আগামী দুই দশকে মিলেনিয়াল এবং জেন-এক্স প্রজন্মের কাছে পৌঁছাবে মাত্র ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার। বাকি অংশ কর, ঋণ এবং অবসরকালীন খরচ (বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ) হিসেবে ব্যয় হয়ে যাবে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের মতে, সোশ্যাল সিকিউরিটি হওয়া উচিত দরিদ্র প্রবীণদের সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা, কোনো ধনী ব্যক্তিদের আয়ের উৎস নয়। তারা প্রস্তাব করেছে যে, উচ্চ আয়ের অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা কমিয়ে সেই অর্থ দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে নিজস্ব সঞ্চয় গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া উচিত।