বিনিয়োগ জগতের পরিচিত মুখ এজে স্কারামুচ্চি তার নতুন ভেঞ্চার ফার্ম 'সোলারির ক্যাপিটাল' (Solari Capital) আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রারম্ভিক পর্যায়ের চুক্তি, পরবর্তী পর্যায়ের প্রবৃদ্ধি এবং নিজস্ব ইনকিউবেশন প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৩৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন রন কনওয়ে, জিম ব্রায়ার, স্টিফেন পাগ্লুকা, প্রাক্তন অ্যালফাবেট সিইও এরিক শ্মিডট এবং উদ্যোক্তা পিটার ডায়ামন্ডিসের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। উল্লেখ্য, এজে স্কারামুচ্চি হলেন স্কাইব্রিজ ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্থনি স্কারামুচ্চির পুত্র।

সোলারির ক্যাপিটালের মূল দর্শন হলো 'প্রোগ্রামেবল রিয়েলিটি' (Programmable Reality)। স্কারামুচ্চির মতে, কম্পিউটিং ক্ষমতার ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে আগামীতে জীববিজ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, ভৌত পদার্থ এবং অর্থব্যবস্থাকে সফটওয়্যারের মতোই নিখুঁতভাবে ডিজাইন বা ইঞ্জিনিয়ার করা সম্ভব হবে। তার পোর্টফোলিওতে ইতিমধ্যে xAI, Suno, Tessera Therapeutics, Varda Space এবং Northwood Space-এর মতো প্রতিষ্ঠান স্থান করে নিয়েছে।

তবে বিনিয়োগের পাশাপাশি স্কারামুচ্চি বর্তমান বাজারের একটি গুরুতর সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, স্টার্টআপগুলোর পাবলিক মার্কেটে আসার বা আইপিও (IPO) আনার প্রক্রিয়া এখন অনেক দীর্ঘ হয়ে গেছে। তার ভাষ্যমতে, আগে কোম্পানিগুলো প্রায় চার বছরের মধ্যে আইপিও আনত, যা এখন বেড়ে ১২ থেকে ১৫ বছরে দাঁড়িয়েছে। এই তথ্যটি পরিসংখ্যানের সাথেও সংগতিপূর্ণ। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জয় রিটার-এর মতে, নব্বইয়ের দশকের অধিকাংশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সমর্থিত টেক কোম্পানি ছয় থেকে নয় বছরের মধ্যে পাবলিক হয়েছিল, কিন্তু ২০২৪ সালে এই গড় বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৫ বছরে। এমনকি ১৯৯৫ সালে যেখানে ২০৫টি টেক লিস্টিং ছিল, ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪টিতে।

এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যখন কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনার সুযোগ পান, ততক্ষণে কোম্পানিটির অধিকাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটে যায়। এই বৈষম্য দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য দামী সম্পদ যেমন—শিল্পকর্ম, ডাইনোসরের হাড় বা বিরল ট্রেডিং কার্ডের মতো সংগ্রহের বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে চান স্কারামুচ্চি। এই লক্ষ্যেই সোলারির ক্যাপিটালের পোর্টফোলিওতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে 'ফিশন ল্যাবস' (Fission Labs), যা বেসরকারি কোম্পানির শেয়ারকে টোকেনাইজ করে সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনের সুযোগ করে দেয়। এছাড়া এআই অর্থনীতির জন্য তৈরি করা হয়েছে ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ 'আর্কিটেক্ট ফিনান্সিয়াল' (Architect Financial)। সোলারির নিজস্ব ইনকিউবেশন প্রকল্প 'রেডিয়াল হেলথ' (Radial Health) ইতিমধ্যেই নাসডাক প্রাইভেট মার্কেটে প্রাক-আইপিও নাম হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।