ডিসি স্টুডিওসের নতুন অধ্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে 'ল্যান্টার্নস'। জেমস গান ও পিটার সাফরানের নেতৃত্বে ডিসি তাদের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগৎ নতুনভাবে সাজাচ্ছে, আর সেই পরিকল্পনারই এক উজ্জ্বল অংশ এই সিরিজটি। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া সিরিজটির তৃতীয় পর্ব প্রথম তিন দিনেই বিশ্বজুড়ে এক কোটি দর্শক টেনেছে, যা এ পর্যন্ত সিরিজটির সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রে একাই ৭০ লাখ মানুষ এই পর্বটি দেখেছেন। এর আগে প্রথম পর্বটি দেখেছেন ২ কোটিরও বেশি দর্শক।

শুধু মহাকাশ, অতিমানবীয় শক্তি বা বিশাল যুদ্ধের আয়োজনই নয়—'ল্যান্টার্নস'-এ গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি রহস্যময় হত্যাকাণ্ড। নবাগত গ্রিন ল্যান্টার্ন জন স্টুয়ার্ট এবং অভিজ্ঞ হ্যাল জর্ডান সেই তদন্তে নামেন। ফলে সুপারহিরো গল্পের সাথে ক্রাইম থ্রিলার ও রহস্যধর্মী নাটকের মিশ্রণ দর্শকদের মন জয় করেছে। এই ভিন্ন ঘরানার সংমিশ্রণই সিরিজটির প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃতীয় পর্বে জন স্টুয়ার্টের শৈশব ও পারিবারিক প্রত্যাশার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কঠোর প্রশিক্ষণ এবং বাবা-মায়ের প্রত্যাশার চাপে কীভাবে তিনি গড়ে উঠেছেন, তা দেখানো হয়েছে। অ্যারন পিয়েরের অভিনয়ে চরিত্রটি মানবিক মাত্রা পেয়েছে—যেখানে ভয়, চাপ এবং নিজেকে প্রমাণের লড়াই স্পষ্ট। ফলে জন স্টুয়ার্ট শুধু ক্ষমতাধর একজন সুপারহিরো নন, তাঁর মধ্যে দর্শক নিজেদেরও খুঁজে পান।

অন্যদিকে কাইল চ্যান্ডলারের হ্যাল জর্ডান অভিজ্ঞতার প্রতীক। দুই প্রজন্মের এই দুই ল্যান্টার্নের সম্পর্ক সিরিজটিতে নাটকীয়তা বাড়িয়েছে। অ্যারন পিয়ের ও কাইল চ্যান্ডলারের পাশাপাশি কেলি ম্যাকডোনাল্ড, গ্যারেট ডিলাহান্ট, পূর্ণা জগন্নাথন, জেসন রিটার ও উলরিখ থমসেনের মতো অভিনেতারা সিরিজটিকে সমৃদ্ধ করেছেন। একাধিক চরিত্রের অতীত ও পরস্পরের সম্পর্ক ধীরে ধীরে গল্পের জটিলতা বাড়াচ্ছে, ফলে প্রতি পর্বে নতুন রহস্য জানার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

ক্রিস মুন্ডি, ড্যামন লিন্ডেলফ ও টম কিংয়ের মতো অভিজ্ঞ নির্মাতারা যুক্ত থাকায় শুরু থেকেই নির্মাণের ধরন নিয়ে কৌতূহল ছিল। ফলাফল এখন চোখে পড়ার মতো—এইচবিও ম্যাক্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পাঁচটি উদ্বোধনের মধ্যে স্থান পেয়েছে 'ল্যান্টার্নস'। ডিসি স্টুডিওসের জন্যও এটি সবচেয়ে বড় সিরিজ প্রিমিয়ার হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। ভক্তদের প্রত্যাশা, নির্মাতাদের পরিকল্পনা এবং দর্শকদের সাড়া—সব মিলিয়ে 'ল্যান্টার্নস' ডিসির ভবিষ্যৎ পথের এক শক্তিশালী ইঙ্গিত হয়ে উঠেছে।