আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজকীয় পথচলার পর এবার অবসরের চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করলেন বিরাট কোহলি। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘জিওস্টার’-এর সাথে এক আলাপচারিতায় তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ হবে ভারতের হয়ে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। এর আগে ২০২৪ সালের জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই ফরম্যাট থেকে এবং পরের বছর মে মাসে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপটি দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া এবং জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছরের ৪ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। বিদেশের মাটিতে ভিন্ন কন্ডিশনে খেলার চ্যালেঞ্জ এবং শারীরিক ও মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করে কোহলি জানান, এই টুর্নামেন্টটিই হবে তাঁর শেষ লক্ষ্য। মাঠের লড়াইয়ে নিজের সর্বোচ্চ সক্ষমতা উজাড় করে দেওয়াই এখন তাঁর মূল অনুপ্রেরণা।
৫০ ওভারের বিশ্বকাপের অনন্য তীব্রতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোহলি বলেন, এই টুর্নামেন্টে টি-টোয়েন্টির মতো উত্তেজনা নিয়ে টানা ১০টি ম্যাচ খেলা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তাঁর মতে, একটি ওয়ানডে ম্যাচের ধকল প্রায় আড়াইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সমান। এত বড় টুর্নামেন্টে দীর্ঘ সময় ধরে একই পর্যায়ের তীব্রতা বজায় রাখা সত্যিই এক বড় চ্যালেঞ্জ।
বিরাট কোহলির বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৫ বছর আগে ২০১১ সালে, যেখানে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলে নজর কেড়েছিলেন তিনি। সেই আসরেই তিনি প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পান। এরপর আরও তিনটি বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৭৬৫ রান করে তিনি একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। ওয়ানডে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৩৭ ম্যাচে ৫৯.৮৩ গড়ে ১,৭৯৫ রান করেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি সেঞ্চুরি ও ১২টি হাফ-সেঞ্চুরি। শচীন টেন্ডুলকারের সর্বোচ্চ ২,২৭৮ রানের রেকর্ড ভাঙতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ৪৮৪ রান।
ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁর লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট—ভারতকে আবারও শিরোপা জেতানো। এই লক্ষ্য অর্জনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে তিনি প্রস্তুত। বর্তমানে তিনি কেবল ওয়ানডে এবং আইপিএল ক্রিকেটে মনোনিবেশ করছেন। ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে ভারত আগামীকাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করবে। এছাড়া বছরের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ম্যাচ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের সিরিজ নির্ধারিত রয়েছে। ২০২৭ সালের শুরুতে জিম্বাবুয়ে সফরের মাধ্যমে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে ভারত।




