প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধিমালা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা শুক্রবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ক্লাবটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারাক জানিয়েছেন, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার সংকল্প ও আত্মবিশ্বাস শুরুতে যেমন ছিল, এখনও ঠিক তেমনই অটুট রয়েছে। শনিবার ক্লাবের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি এই আশ্বাসের কথা জানান।
আল মুবারাক তার চিঠিতে উল্লেখ করেন যে, শুক্রবারের খবরের পর সমর্থকরা পরিবার ও পরিচিতদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন, তিনিও একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আইনি প্রক্রিয়াটি এখনও অনেক দীর্ঘ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে। তবে আইনি গোপনীয়তা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি এই মুহূর্তে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারছেন না। এমনকি সমর্থকদের কাছে লেখা এই চিঠিটিও চূড়ান্ত প্রকাশের আগে কয়েকবার আইনি যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিবিসির প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছে ম্যানচেস্টার সিটি। যদিও ক্লাবটির ওপর নির্দিষ্ট কোনো শাস্তির কথা এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় রয়েছে বড় অংকের আর্থিক জরিমানা, প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কেটে নেওয়া। ২০০৮ সালে ক্লাবের মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকে দায়িত্ব পালন করা আল মুবারাক মনে করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ক্লাবটিকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনেকে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন এবং চারদিকে নানা গুঞ্জন চলছে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তিত হয়নি। যারা ক্লাবের অগ্রযাত্রায় বাধা দিতে চায়, তাদের সফল হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মূলত ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে ২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়ের আর্থিক লেনদেন ও নিয়মাবলির পরিপন্থী কাজের অভিযোগে এই মামলাটি চলেছিল। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি ছিল ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত স্পন্সরশিপ আয় এবং ক্লাব পরিচালনা ব্যয়ের সঠিক হিসাব প্রদানে ব্যর্থ হওয়া। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিগ এই পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন সংস্থার হাতে হস্তান্তর করেছিল। যদিও সিটি শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে আবু ধাবির ইউনাইটেড গ্রুপ ক্লাবটি কিনে নেওয়ার পর থেকে সিটি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তারা আটটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, চারটি এফএ কাপ এবং সাতটি লিগ কাপ জয় করেছে। বর্তমান মৌসুমেও পাঁচ ম্যাচে সবকটিতে জয়লাভ করে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে তারা।




