টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভার বর্ণীকিশোরী এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ১০টি ঘোড়া জবাই করার ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা এই কাজ চালায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে রাতের বেলা ঘোড়াগুলো জবাই করা হয়। দুর্বৃত্তরা সাতটি ঘোড়ার মাংস নিয়ে গেলেও তিনটি ঘোড়ার মৃতদেহ ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি জবাইকৃত ঘোড়া, সাতটি ঘোড়ার মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি।
বাসাইল পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, উদ্ধার করা তিনটি ঘোড়ার দেহ এবং সাতটি ঘোড়ার মাথাসহ অন্যান্য অংশ অন্যত্র পুঁতে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ মিয়া বলেন, খবর পেয়ে দেখতে এসেছেন। এখানে ১০টি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে, যার মধ্যে সাতটির মাংস নিয়ে গেছে আর তিনটি রেখে গেছে। তিনি ধারণা করেন, মাংসগুলো কোনো হোটেলে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া এর আগেও উপজেলার নাইকানীবাড়ী ও গাজীর ভাঙ্গা এলাকায় ঘোড়ার মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবিরের ধারণা, দিবাগত রাত ১টা থেকে ৪টার মধ্যে ঘোড়াগুলো জবাই করা হয়েছে। ভোর হয়ে যাওয়ায় দুর্বৃত্তরা সাতটি ঘোড়ার মাংস নিয়ে গেলেও তিনটি জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ওই বাড়িতে কেউ থাকে না বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, বাসাইল বা আশপাশের এলাকায় খুব বেশি ঘোড়া লালনপালন করা হয় না। ফলে অন্য কোথাও থেকে ঘোড়াগুলো এনে এই নির্জন বাড়িতে জবাই করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।




