কন্নড় সুপারস্টার যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ সিনেমাটি মুক্তির আগেই বক্স অফিসে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতের প্রেক্ষাগৃহে ২৬ আগস্ট মুক্তি পেতে যাওয়া ছবিটির প্রথম দিনের আগাম বুকিংয়ে ইতিমধ্যে ৪ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ২৭ কোটি ৩৮ লাখ রুপি। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ১২ হাজার ৬০৯টি শোতে এই টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং কন্নড় ও হিন্দি সংস্করণ থেকেই সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে। কন্নড় টুডি শো থেকে প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ রুপি এবং হিন্দি সংস্করণ থেকে ৭ কোটি ৭২ লাখ রুপি আয় হয়েছে। কন্নড় আইম্যাক্স ও ফোরডিএক্সের মতো প্রিমিয়াম স্ক্রিনিং থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় যোগ হয়েছে। বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে মুক্তির আগেই ৩০ কোটি রুপির মাইলফলক স্পর্শ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগাম বুকিংয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কর্ণাটক, যেখানে যশের জনপ্রিয়তার কারণে ছবিটির জন্য ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। সেখানে ১ হাজার ৭৪৪টি শো থেকে আয় হয়েছে ১০ কোটি ৬৯ লাখ রুপি এবং মুক্তির তিন দিন আগেই ৭৪২টি শো প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। শো সংখ্যার হিসাবে এগিয়ে রয়েছে গুজরাট (২ হাজার ৩১৯টি শো) ও মহারাষ্ট্র (২ হাজার ১৮৯টি শো), তবে আয়ের দিক থেকে কর্ণাটকের তুলনায় অনেক পিছিয়ে — যথাক্রমে ১ কোটি ১৭ লাখ ও ১ কোটি ৩৩ লাখ রুপি। পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি ও উত্তর প্রদেশ থেকেও যথাক্রমে ৮৯ লাখ ৫১ হাজার, ৮৭ লাখ ৯২ হাজার ও ৮০ লাখ ২৯ হাজার রুপি আয় হয়েছে, যা বেশ ভালো বলে বিবেচিত হচ্ছে।

মুক্তির আগেই অবশ্য বিতর্কের মুখে পড়েছে ছবিটি। টিজার, গান ও ট্রেলারে নারী চরিত্রগুলোর উপস্থাপন নিয়ে দর্শকদের একাংশের সমালোচনার জবাবে যশ বলেছেন, ট্রেলার দেখে ছবিটি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, পুরো সিনেমাটি দেখার পরই দর্শকদের মতামত দেওয়া উচিত। গত শনিবার হায়দরাবাদে ছবিটির প্রাক-মুক্তি অনুষ্ঠানে নারী দর্শকদের উদ্দেশে যশ বলেন, সিনেমাটি দেখে উপভোগ করতে এবং তিনি নিশ্চিত যে তাঁরা দারুণ সময় কাটাবেন। অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন যে ‘টক্সিক’-এর পরিচালক গীতু মোহনদাস একজন নারী। যশের মতে, ছবিটি নারীদের সক্ষমতা ও নিজেদের মতো করে এগিয়ে যাওয়ার গল্প বলবে। তিনি তরুণীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে কিছু অর্জন করা সবার জন্যই কঠিন, তবে নারীদের জন্য সেটা দ্বিগুণ কঠিন। সমাজ সব সময় নারীদের গ্রহণ করতে চায় না এবং প্রশ্ন তোলে — একজন নারী আবার কী করতে পারেন! তিনি নিজেও এমন কথা শুনেছেন।

গীতু মোহনদাসের প্রশংসা করে যশ আরও বলেন, এই পরিচালক প্রমাণ করবেন যে প্রত্যেক মেয়ে ও নারী যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন, নিজের চিন্তা ও ভাবনা প্রকাশ করতে পারেন এবং সমাজে নিজের শর্তে সফল হতে পারেন। ট্রেলার যে ধারণা দিয়েছে, বাস্তব গল্পটি তার চেয়ে আলাদা উল্লেখ করে যশ বলেন, এই সিনেমা সত্যিকার অর্থেই নারীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরে। নারী দর্শকদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ — প্রচারণার কিছু দৃশ্য দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পুরো সিনেমাটি দেখা, এরপর নিজেদের মতামত দেওয়া।

ছবিটির প্রচারণা শুরুর পর থেকেই নারী চরিত্রের উপস্থাপনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। টিজারে যশের চরিত্রের সঙ্গে এক নারীর ঘনিষ্ঠ দৃশ্য এবং পরে ‘তাবাহি’ গানে কিয়ারা আদভানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে আলোচনা হয়। কিয়ারার চরিত্র ও উপস্থাপনাকে কেন্দ্র করে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে, যা ট্রেলার প্রকাশের পর আরও জোরালো হয়। ছবিতে নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, তারা সুতারিয়া, হুমা কুরেশি ও রুক্মিণী বসন্তের মতো অভিনেত্রী থাকলেও তাঁদের চরিত্রের ব্যাপ্তি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, যশের গ্যাংস্টার অবতার, সিনেমাটির বিশাল নির্মাণ পরিসর ও দৃশ্যায়ন প্রশংসা পেয়েছে দর্শকদের একাংশের কাছ থেকে।

‘কেজিএফ’ সিরিজের বিপুল সাফল্যের পর যশ কোন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করবেন, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। যশ জানান, গীতু মোহনদাস সেভাবে ভাবেননি। ‘কেজিএফ’-এর পর মানুষ ভাবছিল, যশ কোন বড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করবে কিংবা পরবর্তী কোন বাণিজ্যিক ফর্মুলা অনুসরণ করবে। কিন্তু গীতু বলেছিলেন, ‘আমার টাকার প্রয়োজন নেই। আপনি আমাকে ইতিমধ্যে যথেষ্ট দিয়েছেন।’ নিজের সাফল্য ও অর্থের প্রসঙ্গে যশ বলেন, ‘আমার সম্পদের কারণে আমি সম্মান পাই না। আমি আমার কাজের জন্য সম্মান পাই।’

গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’-এ যশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্ত। অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার ছবিটি কন্নড়ের পাশাপাশি ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম ভাষায় মুক্তি পাবে। যশের ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির পর নতুন এই ছবিকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। মুক্তির আগে আগাম বুকিংয়ের এই গতি শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনের বক্স অফিসে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।