প্রতিদিন অসংখ্য কিশোরী স্কুলগামী হলেও তাদের জন্য যাতায়াতের পথ কতটা নিরাপদ, তা এখন বড় প্রশ্ন। যানবাহন দুর্ঘটনার পাশাপাশি রাস্তায় বখাটেদের উপদ্রব এবং নানা ধরনের হয়রানির কারণে অনেক ছাত্রী চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানালেও অনেকেই ভয় কিংবা সংকোচের কারণে মুখ খোলেন না। তাদের মধ্যে একটি সাধারণ আশঙ্কা কাজ করে যে, প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এছাড়া পরিবারকে জানালে স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে অথবা চলাফেরার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, এমন ভয়ও তারা পান।

কুড়িগ্রামের এক ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতায় জানা যায়, তার পরিচিত অনেক মেয়েই রাস্তায় বাজে মন্তব্য বা গান গাওয়ার মতো অশালীন আচরণের শিকার হয়েছেন, কিন্তু ভয়ে তারা চুপ থেকেছেন। এমনকি বাসা থেকে স্কুলের দূরত্ব মাত্র পাঁচ মিনিট হলেও এক ছাত্রী তার যাতায়াতের পথকে নিরাপদ মনে করেন না। রাস্তার একটি নির্দিষ্ট নির্জন এলাকায় কয়েকজন ছেলের দ্বারা উত্যক্ত হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে তিনি এখনো আতঙ্কিত থাকেন।

একটি বিদ্যালয়ের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, সেখানে চার শতাধিক ছাত্রী রয়েছে যাদের মধ্যে প্রায় একশ জন সাইকেলে করে যাতায়াত করে। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর যাতায়াতের পথ নিরাপদ রাখা কেবল তাদের পরিবারের একক দায়িত্ব নয়, বরং এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। কোনো শিশুর শিক্ষা জীবনের পথে যেন এই নিরাপত্তাহীনতা বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাই স্থানীয় প্রশাসন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পরিবার এবং সামগ্রিক সমাজের সচেতন হওয়া জরুরি। কোনো শিশু যদি তার সমস্যার কথা প্রকাশ করে, তবে তাকে দোষারোপ না করে সহমর্মিতার সাথে শোনা এবং তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।