মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট এবং ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের অর্থনীতিকে যেমন গতি দিতে পারে, তেমনি বিশ্ব অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
নতুন এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার হাতে রয়েছে নীতি নির্ধারণের বিশাল ক্ষমতা। বেসেন্ট দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক বাজার ও করনীতি নিয়ে কাজ করেছেন, অন্যদিকে ওয়ার্শ বাজার সংস্কার ও মুদ্রানীতিতে অভিজ্ঞ। তাঁদের যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি যে সংকটকালীন সময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফেরাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার—এই তিনটি ক্ষেত্রে তাঁদের নীতি গ্রহণের প্রয়োজন। বেসেন্ট যদি রাজস্ব নীতিতে ভারসাম্য আনেন এবং ওয়ার্শ সুদের হার নিয়ে সতর্ক সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে অভ্যন্তরীণ বাজার যেমন উপকৃত হবে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও সুফল মিলতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতি এখন অনেকটা পরস্পর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলে। ফলে এই দুই নেতার সিদ্ধান্ত কেবল আমেরিকান নাগরিকদের জীবনযাত্রাকেই নয়, বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার ও পুঁজির প্রবাহকেও প্রভাবিত করবে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ শৃঙ্খলের জটিলতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ—সবকিছু মোকাবিলা করে তাঁদের কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি, কিন্তু সময় কম। এই পরিস্থিতিতে বেসেন্ট ও ওয়ার্শের মধ্যে সমন্বয়ই হতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই নেতৃত্ব যদি বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী নীতি গ্রহণ করেন, তাহলে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতি একটি নতুন ধারায় প্রবেশ করতে পারে। সেই সম্ভাবনাই এখন সবার সামনে।


