উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউটায় গত জুলাই মাসে হাজার হাজার অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনার আগে স্পেনের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (CNI) সতর্কবার্তা দিয়েছিল। সম্প্রতি স্প্যানিশ সরকার কর্তৃক উন্মুক্ত করা কিছু গোপনীয় নথিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, সরকার এই সংকটের প্রকৃত চিত্রটি জনগণের কাছে গোপন করেছে।

নথিতে দেখা গেছে, গত ২৯ জুলাই স্পেনের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (CNI) মরক্কো এবং সিউটার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ অভিবাসীদের আগামীদিনেই সিউটায় প্রবেশের জন্য উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে এই প্রচার চালানো হচ্ছিল। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুসারে, প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এই বার্তাগুলো পেয়েছিলেন। একটি বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, ৩০ জুলাই 'থ্রোন ডে'র প্যারেড ও উদযাপনে কর্তৃপক্ষের মনোযোগ অন্যদিকে থাকায় এটিই হবে সীমান্ত পার হওয়ার শেষ সুযোগ। এই বার্তাগুলোতে সাঁতার কেটে অথবা সীমান্ত বেড়া ডিঙিয়ে প্রবেশের কথা বলা হয়েছিল।

তথ্য অনুযায়ী, ৩০ এবং ৩১ জুলাই মরক্কো থেকে অন্তত ৭২ হাজার অভিবাসী সিউটায় প্রবেশ করেন। সিউটার মেয়ারের দেওয়া তথ্যমতে, এই প্রক্রিয়ায় অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়। যদিও অধিকাংশ অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তবে প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনো শহরের সৈকতে বা অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীদের আশ্রয়স্থলে হামলা ও ত্রাণ সরবরাহে বাধা দেওয়ার মতো অশান্তির ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ পার্লামেন্টে দাবি করেছিলেন যে, জুলাইয়ের শেষ দুই দিনে যে মাপের সংকটের মুখোমুখি হতে হবে, তার কোনো আগাম পূর্বাভাস ছিল না। তিনি এই ঘটনাকে 'অপ্রত্যাশিত' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে বিরোধী দলগুলো এই নথির বরাতে দাবি করছে যে, সরকার স্পেনের মানুষকে ভুল তথ্য দিয়েছে। রক্ষণশীল পিপলস পার্টির এস্টার মুনিওজ বলেন, তথ্য থাকা সত্ত্বেও সরকার সিউটার এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দায়ী এবং মৃত্যুর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। এমনকি অতি-ডানপন্থী দল ভক্স-এর খোরহে বুক্সাদে এই ঘটনাকে 'দেশদ্রোহিতা ও নিরাপত্তা অপরাধ' হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহযোগীদের সুপ্রিম কোর্টে বিচার করার দাবি জানিয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, ৩০ জুলাইয়ের ঘটনার ব্যাপকতা সম্পর্কে তিনি কোনো প্রতিবেদন পাননি। সরকারের এক সূত্র দাবি করেছে, প্রাপ্ত তথ্যগুলো ছিল সাধারণ তথ্যের আদান-প্রদান মাত্র, যা দিয়ে সংকটের ভয়াবহতা আগে থেকে বোঝা সম্ভব ছিল না। সিউটায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল পেরেজ ট্রিয়ানো-ও জানান, গোয়েন্দা সংস্থার পাঠানো মেসেজগুলো কেবল তথ্যের আদান-প্রদান ছিল, কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা বা রিপোর্ট ছিল না।

এরই মধ্যে একটি ফাঁস হওয়া পুলিশ রিপোর্টে মরক্কো পুলিশের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও প্রধানমন্ত্রী সানচেজ তা অস্বীকার করেছেন। প্রবল চাপের মুখে সরকার এই সংকট সংক্রান্ত ৪০টিরও বেশি নিরাপত্তা নথি প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে।