সিঙ্গাপুরে বেতনবঞ্চিত হয়ে কাজ হারানো ২৩০ জনেরও বেশি অভিবাসী শ্রমিকের জন্য নতুন চাকরির পথ খুলে গেছে। এদের মধ্যে সিংহভাগই বাংলাদেশি নাগরিক। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের (এমওএম) অনবোর্ডিং সেন্টারে একটি কর্মসংস্থান মেলার আয়োজন করা হয়, যেখানে নির্মাণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের বিভিন্ন নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্ট্রেইটস টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে।
গত অক্টোবরে বকেয়া বেতনের দাবিতে অভিযোগ জানানো এই শ্রমিকরা মূলত ‘প্রসেস মেইনটেন্যান্স সলিউশনস’ এবং ‘জুরং টেকনিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন। বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার অভিযোগে বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়। এই সংকটে পড়া শ্রমিকদের জন্য নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি সাময়িক আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করেছে অভিবাসী শ্রমিক কেন্দ্র (এমডব্লিউসি) এবং মন্ত্রণালয়।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী রব্বানি মো. গোলাম জানান, দুই মাসের বেতন বকেয়া থাকায় তার কাছে ১০ ডলারেরও কম টাকা ছিল। তবে ৬ নভেম্বর একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব পাওয়ায় তিনি আশাবাদী হয়েছেন। ২৩ বছর বয়সী মো. সাব্বির আলম নভেম্বরের শুরুতে বকেয়া বেতন পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং নতুন কাজে ফিরে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চান। তবে সায়মন ইসলাম নামের এক শ্রমিক এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, যার তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে এবং তিনি ৬ হাজার ডলারের ঋণের বোঝা বহন করছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘প্রসেস মেইনটেন্যান্স সলিউশনস’-এর প্রায় ১২০ জন শ্রমিকের অধিকাংশ বকেয়া বেতন পেয়েছেন, তবে ‘জুরং টেকনিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’-এর অনেক কর্মী এখনও অর্থ পাননি। আগস্ট থেকে বেতন না পাওয়া এবং সেপ্টেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের ফলে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে শ্রমিকদের প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের পাশাপাশি নির্মাণ খাতেও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, কারণ সেখানে গড় আয় (৮৬৮ ডলার) প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের (৭৭১ ডলার) চেয়ে বেশি।
এমডব্লিউসি-র পরিচালক মাইকেল লিম জানান, ৩ নভেম্বরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের অনবোর্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ৯০ শতাংশের বেশি শ্রমিক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছেন। যারা নিজস্ব প্রচেষ্টায় চাকরি খুঁজে পেয়েছেন, তাদের নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের আবেদনে সহায়তা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার নেপথ্যে একটি অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ করছে সিঙ্গাপুর সরকার। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালকরা আগে এমন দুটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন যেগুলোর মালিক জুলাই মাসে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, একজন বাংলাদেশি ব্যক্তি তাদের নিয়োগ ও কর্মস্থলে পাঠানোর কাজ করতেন। এই বিষয়ে বাংলাদেশ হাই কমিশন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষের সাথে পূর্ণ সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। জনশক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




