মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মাসের কম সময়ের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো টেক্সাস সফর করেছেন। আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান পার্টির সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্য। এই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্প এমন এক সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সমর্থনে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বরাবরই তিক্ত। অতীতে ট্রাম্প প্যাক্সটনের পোশাক ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে উপহাস করেছেন, অন্যদিকে প্যাক্সটনও প্রেসিডেন্টের কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সান আন্তোনিওতে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প তাঁর চিরচেনা আক্রমণাত্মক ও রসাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলেন। তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাঁকে মিথ্যা 'ভেগান' বলে আক্রমণ করেন। তবে সমাবেশের পরিবেশ সবসময় শান্ত ছিল না; ট্রাম্পের বক্তব্যে বাধা দেওয়ায় অন্তত এক ডজন বিক্ষোভকারীকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এছাড়া সম্প্রতি ইরান সংক্রান্ত একটি উসকানিমূলক মন্তব্যের বিষয়ে এই সমাবেশে তিনি কিছুটা স্পষ্টীকরণ করার চেষ্টা করেন এবং বলেন, 'আমরা এমনটা হতে দেব না।'
জনমত জরিপ অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর লড়াই এবার অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হবে। যদিও ১৯৯৪ সালের পর টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হতে পারেনি, তবে বর্তমান সমীকরণে রিপাবলিকানরা বেশ চিন্তিত। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্যাক্সটনের প্রচারে লাখ লাখ ডলার বিনিয়োগ করছে দল। তবে দলের ভেতরেই বিভক্তি দেখা গেছে; টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সময়ের অভাবের কথা বলে এই সমাবেশে উপস্থিত হননি এবং গত সপ্তাহের সফরটিও এড়িয়ে গেছেন।
প্যাক্সটনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নানা কেলেঙ্কারিতে ঘেরা, যার মধ্যে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি ও পরকীয়ার অভিযোগ রয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রাথমিক বাছাইয়ে ট্রাম্প তাঁকে সমর্থন দিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক্সিওস এবং নিউইয়র্ক টাইমসের ফাঁস করা অডিওতে প্যাক্সটনকে ট্রাম্পের কিছু নীতি এবং ডালাস কনভেনশনের সমালোচনা করতে শোনা গেছে। প্যাক্সটনের মতে, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ও ইরানে যুদ্ধের পরিস্থিতি তাঁর নির্বাচনী প্রচারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যদিও তাঁর নির্বাচনী দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে যে ট্রাম্প দ্রব্যমূল্য কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
মঞ্চে যখন ট্রাম্প ও প্যাক্সটন একসঙ্গে উপস্থিত হন, তখন তাঁদের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক দেখা যায়। ট্রাম্প প্যাক্সটনকে 'অসাধারণ মানুষ' ও 'অবিশ্বাস্য সিনেটর' হিসেবে অভিহিত করেন। প্যাক্সটনের নির্বাচনী দল এবং রিপাবলিকান কৌশলবিদদের মতে, বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে এবং সিনেটে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ট্রাম্পের সমর্থন প্যাক্সটনের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই ঘনঘন টেক্সাস সফরকে 'ক্ষতি কমানোর কৌশল' হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, স্বতন্ত্র ভোটারদের সমর্থন হারালে তবেই প্রেসিডেন্টকে এভাবে মাঠে নামতে হয়। বিশেষ করে হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তারা এই সফরের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রিপাবলিকান কৌশলবিদদের মতে, টেক্সাসে প্যাক্সটনের সম্ভাব্য পরাজয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে, যা ২০২৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে। প্যাক্সটনের ভাষায়, 'টেক্সাসে হারলে আমেরিকাতেও হারব।'




