সোমবার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় ৩৫ বছর বয়সী লিয়া স্টুয়ার্ট প্রথমবারের মতো হামলার পর নিজের কথা জানান। তিনি এক সন্তানের মা। জুনে সিডনির জনপ্রিয় কুগি বিচে সকালের সাঁতারের সময় হাঙরের কামড়ে তার হাত ও পায়ে একাধিক গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনাস্থল থেকে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয় এবং কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়; চিকিৎসকদের একটি হাত কেটে ফেলতে হয়।
স্টুয়ার্ট লেখেন, গত কয়েক মাস তার জন্য “অবিশ্বাস্যভাবে কঠিন” ছিল। তবে তিনি এখন কিছুটা স্বাধীনতা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন এবং অন্ধকারের পর কিছুটা আলোর রেখা দেখতে পাচ্ছেন বলে জানান। তার কথায়, “আমি মনে করি আমাকে জীবনের দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া হয়েছে, এবং আমি এটি অপচয় করতে চাই না।” তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও এমনকি অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনে তিনি “অভিভূত”। সেই ভালোবাসা তাকে “ভালো হতে, তিক্ত হতে নয়”—এই পথ বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করেছে।
অনলাইনে চালু করা তহবিলটি এখন বন্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি। সেখানে সংগৃহীত ৫৫ লাখের বেশি অস্ট্রেলীয় ডলার—মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার এবং ব্রিটিশ পাউন্ডে প্রায় ২ লাখ ৮৯ হাজার—তাকে বাড়িতে থেকে সেরে ওঠার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চিকিৎসার জন্য বিকল্প দেবে। তিনি স্বীকার করেন, এখনও অনেক দূর যেতে হবে, কিন্তু তার সেরে ওঠা “উল্লেখযোগ্য”। এর পেছনে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পাওয়া “ভালোবাসা, সমর্থন, প্রার্থনা ও উৎসাহের এক বিশাল বাহিনী” কাজ করছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অস্ট্রেলিয়ায় চলতি বছর হাঙরের হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারিতে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে চারটি আক্রমণের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে এক ১২ বছরের কিশোর গুরুতরভাবে আহত হওয়ার পর মারা যায়। মে মাসে কুইন্সল্যান্ডে স্পিয়ারফিশিংয়ের সময় এক ব্যক্তি নিহত হন। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ৪ মিটার (প্রায় ১৩ ফুট) লম্বা একটি হাঙরের আক্রমণে দুই সন্তানের জনক এক পিতার মৃত্যু ঘটে।



