চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে তিনি সশরীরে ক্যাম্পাসে না গিয়ে অনলাইনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানান, বিকেল ৪টার দিকে সচিবের মাধ্যমে তার যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনসহ প্রয়োজনীয় সব দপ্তরে জানানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে যাওয়ার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, খুব দ্রুতই তিনি সেখানে উপস্থিত হবেন, তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করবেন।
নতুন উপাচার্য যোগ দিলেও ক্যাম্পাসে উত্তজনা প্রশমিত হয়নি। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় ওই পদে ফিরিয়ে আনার দাবিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের এক বিশাল মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিলে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন এবং স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি জানান। গত সোমবার রাতে নতুন উপাচার্যের নিয়োগ প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে তারা ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা দিয়ে 'শাটডাউন' ঘোষণা করেন, যার ফলে গত তিন দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি কার্যত অচল হয়ে আছে এবং কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ৫৬ দিন পর, ২১ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এই আকস্মিক পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই রাতেই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। এই আন্দোলনে শিক্ষক সমিতি শুরু থেকেই একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এমনকি বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষক সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন উপাচার্যকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দেখতে চান না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি তুলে ধরেন।




