একটি প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের লড়াই। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে হায়ানের চমৎকার এক হেডার দলের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসে, যার ফলে দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর পর অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলেও প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো গোল করতে পারেনি ব্রাজিল। তবে খেলার শুরুতেই সুযোগ পায় অস্ট্রেলিয়া। সপ্তম মিনিটে নেস্টরি ইরানকুন্ডার একটি শট হুগো সোসা ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দলকে রক্ষা করেন। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে দগলাস সান্তোস ও ইয়াকব ইতালিয়ানোর মধ্যে মাথায় সংঘর্ষ হওয়ায় কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধ রাখতে হয়। এরপর ২১তম মিনিটে ব্রুনো গিমারাইসের শট ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাটরিক বিচ। ২৩ মিনিটে হাফিনিয়ার হেড এবং ৩১ মিনিটে এন্দ্রিকের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এন্দ্রিককে জার্সি টেনে ধরা হলেও রেফারি পেনাল্টির আবেদন নাকচ করেন। এর পর ভিনিসিউস জুনিয়র ও হাফিনিয়ার প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ৩৮ মিনিটে হাফিনিয়ার শটে কর্নার পাওয়া গেলেও ৩৯ মিনিটে গিমারাইসের লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশ হয় ব্রাজিল। বিরতির আগে এস্তেভোঁ জালে বল পাঠালেও গিমারাইসের ফাউলের কারণে ভিডিও রিপ্লে দেখে রেফারি সেই গোল বাতিল করেন।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ভিনিসিউস জুনিয়র হাফিনিয়ার ক্রসে ভলি করার চেষ্টা করেন তবে সফল হননি। ৬৩ মিনিটে হাফিনিয়ার আড়াআড়ি শট এবং ৬৪ মিনিটে এস্তেভোঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে ৬৯ মিনিটে একটি নিখুঁত ফ্রি কিক থেকে গোল করে ব্রাজিলকে পিছিয়ে দেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা। এই গোলের ক্ষেত্রে ব্রাজিল গোলরক্ষক হুগো সোসার ভূমিকা ছিল বিতর্কিত, কারণ তিনি বলটি ঠেকানোর জন্য যথাযথ চেষ্টা না করেই থেমে যান বলে মনে হয়েছে।

পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিল তাদের আক্রমণের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। একের পর এক আক্রমণ করেও দীর্ঘক্ষণ কোনো ফল না পেলেও শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে হাইয়ান জাল খুঁজে নেন। হাফিনিয়ার কর্নার থেকে পাওয়া বলে হেডের মাধ্যমে সমতা ফিরিয়ে আনেন ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এই গোলের পর স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল দল। আগামী মঙ্গলবার আরেকটি প্রীতি ম্যাচে আবারও একে অপরের মুখোমুখি হবে এই দুই দেশ।