অভিনয়শিল্পী জাকিয়া বারী মম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চিত্র তুলে ধরেছেন। অভিনয়ের খবরের বাইরেও তাঁর বিভিন্ন পোস্টে সমসাময়িক ঘটনা ও ইস্যুর প্রতীকী উপস্থাপনা দেখা যায়। সম্প্রতি তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে জানান, অনলাইনে প্রবেশ করলে তাঁর মনে হয় যেন তিনি জনপ্রিয় অপরাধভিত্তিক ধারাবাহিক ‘ক্রাইম প্যাট্রল’ দেখছেন। সোমবার দেওয়া এই বার্তার পর তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
মম ব্যাখ্যা করেন, বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ঢুকলেই চোখের সামনে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক নেতিবাচক ঘটনা ভেসে ওঠে। মারামারি, হানাহানি এবং বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের খবর যেন কোনো বিরতিই নিচ্ছে না। তাঁর মতে, এই অবিরাম নেতিবাচক প্রবাহ দেখে মন খারাপ হয়ে যায়। সেই মনোবেদনা থেকেই তিনি প্রতীকী ভাষায় নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সামাজিক মাধ্যমে ঢুকলে দেখেন একটার পর একটা ঘটনা ঘটছেই—কী না হচ্ছে।
‘ক্রাইম প্যাট্রল’ শব্দচয়নের পেছনে রয়েছে একটি স্পষ্ট তুলনা। বাস্তব অপরাধ ও রহস্যময় ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত ওই ধারাবাহিকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অপরাধের কাহিনি ও তার নেপথ্যের গল্প উপস্থাপন করা হয়। মমের দৃষ্টিতে, আজকের সামাজিক মাধ্যমের চিত্রও অনেকাংশে সেই ধারাবাহিকের মতো হয়ে উঠেছে—যেখানে একটির পর একটি হিংসাত্মক, সংঘাতময় বা বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদ সামনে আসছে। এই তুলনার মাধ্যমে তিনি বর্তমান অনলাইন পরিবেশের অস্থিরতা ও নেতিবাচকতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনয়শিল্পী বলেন, তিনি পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেন। অনেক কায়দা ও পরিশ্রম করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন। অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো তিনিও সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ করলে এই ধারাবাহিক নেতিবাচকতার মুখোমুখি হন। তাঁর ভাষ্য, একটার পর একটা ঘটনা ঘটছেই—মারামারি, হানাহানি, বিদ্বেষ—কী না হচ্ছে। এসব দেখে তাঁর মন খারাপ হয় এবং তিনি নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
এই পরিস্থিতিতে নিজের অসহায়ত্বের কথাও স্বীকার করেন তিনি। ফেসবুকে ঢোকার পর এসব ঘটনায় তাঁর মন খারাপ হয় বলে জানান মম। তবে তিনি মনে করেন, তাঁর মতো সাধারণ মানুষের হাতে পরিবর্তনের কোনো ক্ষমতা নেই। মানুষ নানা দুঃখ-বেদনা লিখে রাখে; তিনিও কেবল ফেসবুকে নিজের সময়টুকু ব্যয় করে সেই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, তিনি নিতান্তই নিজের কাজ করে বেঁচে থাকা একজন সাধারণ ব্যক্তি—তাই এই নেতিবাচকতার বাইরে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা তাঁর নেই। কেবল অনুভূতির মাধ্যমে তিনি নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।




