ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে 'এনকাউন্টার' বা সাজানো বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে তাঁকে হত্যা করার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার লাদাখিদের আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। ওয়াংচুক বলেন, বর্তমানে তিনি কারাবন্দি এবং তাঁর কাছে খবর আসছে যে সরকার তাঁকে মেরে ফেলতে পারে। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, যদি তাঁর সাথে এমন দুর্ঘটনা ঘটে, তবে অন্তত পুরো দেশ জাগ্রত হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা এবং পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে লেহতে এক বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। ওই সহিংসতায় চারজনের মৃত্যু হয়, যার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। গত বৃহস্পতিবার ছিল সেই ঘটনার এক বছর পূর্ণ হওয়া। এই বিশেষ দিনে তিনি তাঁর ভাষণে সতর্ক করেন যে, এই বক্তব্যের পর সরকার আবারও তাঁর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে। তাঁর মতে, লাদাখের বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার একটি চক্রান্ত সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, যদিও তা সফল হয়নি।

সোনম ওয়াংচুক গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বরের সেই সহিংসতার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এবং সেই রিপোর্ট জনগণের সামনে প্রকাশ করার কথা বলেছেন, যাতে প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচিত হয়। যদিও ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের আগে লাদাখের উপরাজ্যপাল বিনয় কুমার সাকসেনা এক নির্দেশ দিয়ে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ২০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের কথা বলেন এবং নিহতদের পরিবারকে ১৫ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। তবে এই সরকারি পদক্ষেপকে তোয়াক্কা না করে ওয়াংচুক অভিযোগ করেন, তিব্বতিদের প্রতি চীনের আচরণও লাদাখবাসীদের প্রতি ভারত সরকারের আচরণের মতো এত নিষ্ঠুর নয়।

আন্দোলনের প্রথম দিকে ব্যাপক জনসমর্থন পেলেও সম্প্রতি পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন দেখা গেছে। শহীদ দিবস উপলক্ষে ২০ কিলোমিটার পদযাত্রার পরিকল্পনা করা হলেও অংশগ্রহণকারীর অভাবে মাত্র চার কিলোমিটার যেতেই তা শেষ করা হয়। জনসভাতেও উপস্থিতির সংখ্যা ছিল আশানুরূপ নয়। এই পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াংচুক পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে বলেন, মানুষকে বিভিন্ন স্থানে বাধা দিয়ে এবং আটক করে সভা ও পদযাত্রায় আসতে দেওয়া হয়নি। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, মানুষের উপস্থিতি কম হওয়ার মানে এই নয় যে আন্দোলন শেষ হয়ে গিয়েছে।

সোনম ওয়াংচুকের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। লাদাখ আন্দোলনের পর তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করে রাজস্থানের জেলে পাঠানো হয়েছিল। ছয় মাস পর সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পান। পরবর্তীতে তিনি তেলাপোকা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে সমর্থন জানান এবং যন্তরমন্তরে অনশন শুরু করেন, যা কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভাঙিয়ে দেয়। এরপর থেকেই তাঁর ও সরকারের মধ্যে সমঝোতার নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল।