রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি খুন হয়েছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এই আলোচিত হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল গত বুধবার, কিন্তু তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তা দাখিল করতে পারেনি। ফলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ৫ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন। মামলার প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, তদন্ত প্রতিবেদন জমার এই তারিখ এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩০ বারের মতো পেছানো হয়েছে।

ঘটনার পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। শুরুতে তদন্তের দায়িত্ব থাকলেও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ থেকে তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘ দুই মাস তদন্ত করেও ডিবি কোনো রহস্য উন্মোচন করতে না পারায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল উচ্চ আদালতের নির্দেশে তদন্তভার র‍্যাবের হাতে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও র‍্যাবের তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না আসায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাই কোর্ট মামলাটি র‍্যাবের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়। একইসাথে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়।

হাই কোর্টের সেই আদেশের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করে, যার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান পিবিআই প্রধান। বর্তমানে এই বিশেষ টাস্কফোর্সের তত্ত্বাবধানেই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় টাস্কফোর্সকে দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে; সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল হাই কোর্ট আরও ছয় মাসের সময় মঞ্জুর করেন।

এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, তানভীর রহমান খান এবং সাগর-রুনির বাসার নিরাপত্তা কর্মী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তানভীর রহমান খান জামিনে মুক্ত থাকলেও পলাশ রুদ্র পাল জামিন পাওয়ার পর থেকে পলাতক। মামলার অন্য অভিযুক্তরা বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এছাড়া প্রধান কৌঁসুলি জানিয়েছেন, তদন্তে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।