ঢাকার সাভারে আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাব হোসেনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মুন্সিগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রোববার রাতে একটি খুদে বার্তার মাধ্যমে র্যাব এই গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছে। তবে এ অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানাতে সোমবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে একটি ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে র্যাব-১০-এর কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাবেন। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় এর আগে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার রাতে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায়। নিহতের পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মদিনা সিটি এলাকায় আলতাবের দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা রয়েছে। শনিবার রাত প্রায় আটটার দিকে কারখানার পাশে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল। একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশার সাইড দেওয়া-নেওয়া নিয়ে এই বিবাদের সূত্রপাত হয়। সেখানে গিয়ে আলতাব ওই ব্যক্তিকে মারধর থেকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন। ওই সময় ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা আলতাবকেও আক্রমণ করে। নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন এবং কানে আঘাত পাওয়ার পর দ্রুত কারখানায় ফিরে যান।
কারখানায় ফিরে আলতাব তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকে পুরো ঘটনাটি জানান। বাবা ও ছেলে যখন কারখানার বাইরে আসেন, তখন ওই ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে চলে আসে। পরিবারের দাবি, গাড়িতে থাকা লোকসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করে। তারা কারখানার দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা জোরপূর্বক ভেতরে ঢুকে পড়ে। ভেতরে ঢুকে আলাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি প্রথমে আরিফুলের বুকে লাথি মারেন এবং পেছন থেকে ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। একই সাথে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে এসআই আলতাবকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক আলতাবকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে আরিফুল ইসলাম ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।
নিহত মো. আলতাব হোসেন এসবি-র মালিবাগ কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন এবং তিনি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার রূপনাই গাছপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। আলতাবের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম জানান, শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় বাবা বাড়িতে ছিলেন এবং পরে কারখানায় যান। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার নিয়মিত তাঁদের কারখানার সামনে ঘোরাঘুরি করত এবং ওই গাড়ির লোকজন পাশের একটি বালুর মাঠে নেশা করত। এই ঘটনার জন্য জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।




