ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ বা ডিবি এখন তদন্ত করবে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বিষয়টি। গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি ডিবি-তে স্থানান্তরিত হয়। এর আগে ওই থানারই একজন পরিদর্শক সাবেক ওসির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেন, যার ফলে রাকিবুল হাসান গ্রেপ্তার হন এবং আদালত থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, মামলার যাবতীয় নথিপত্র তাঁরা বুঝে পেয়েছেন এবং রাকিবুল হাসান গতকাল রাতেই ডিবি হেফাজতে এসেছেন। পুলিশ, প্রশাসন এবং সরকারসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ষড়যন্ত্রের পেছনে আর কারা জড়িত ছিল, তা উদঘাটন করতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রাকিবুল হাসানের কিছু উসকানিমূলক অডিও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এই ঘটনায় আরও চার-পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার কথা ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে, যখন রাকিবুল হাসান ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তখন তাঁর একটি কথোপকথনের অডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন এবং পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে। এছাড়া পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। এই অডিওটি আলোচনায় আসার পরদিন তাঁকে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ওসি পদ থেকে সরিয়ে রাজারবাগে ডিএমপির সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একইসাথে ডিএমপি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্তের শুরুর দিকে ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানালেও, তৎকালীন ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম সেই তথ্য অস্বীকার করেছিলেন। এরপর এক সপ্তাহ তাঁর অবস্থান অস্পষ্ট থাকলেও অবশেষে গতকাল তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিতর্কিত অডিওতে রাকিবুল হাসানকে বলতে শোনা যায় যে, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলে পুলিশ তা ঠেকাতে পারবে না কারণ তারা অত্যন্ত দুর্বল। এছাড়া তিনি দাবি করেন, অনেক সিনিয়র অফিসার বিএনপি-র হয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি পদায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মনির নামক এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার গাড়িচালকের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের বিনিময়ে যোগ্যদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং রাষ্ট্রদ্রোহের গভীরতা খতিয়ে দেখছে ডিবি।




