সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (CEO) প্রকাশ্য মতাদর্শ বা সক্রিয়তার প্রতি মার্কিন জনগণের আগ্রহ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। কয়েক বছর আগে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ, জাতিগত বৈচিত্র্য কিংবা সমকামী অধিকারের মতো সামাজিক ইস্যুতে সিইও-দের কথা বলার প্রত্যাশা ছিল সাধারণ মানুষের। উদাহরণস্বরূপ, টেসলার সিইও ইলন মাস্কের ডিইআই (DEI) প্রচেষ্টার সমালোচনা, লিভিসের সাবেক প্রধানের বন্দুক সহিংসতা রোধের আহ্বান কিংবা স্টারবাকস প্রতিষ্ঠাতার জাতিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার কথা বলা যায়। তবে বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা নির্বিশেষে অনেক মার্কিন নাগরিক এই ধরনের আলোচনায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, সংস্কৃতি যুদ্ধ এবং অ্যাক্টিভিস্টদের আক্রমণের মুখে পড়া অনেক প্রধান নির্বাহীও এখন এই বিতর্কিত অবস্থান থেকে সরে আসতে স্বস্তি বোধ করছেন।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ বিজনেস কর্তৃক ২,৮০০ মার্কিন নাগরিকের ওপর পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক দেশব্যাপী সমীক্ষায় এই প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৫৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন বড় কর্পোরেশনের সিইও-দের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলা উচিত। অথচ ২০১৮ সালে একই সমীক্ষায় এই হার ছিল ৬৫ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই গবেষণার অন্যতম লেখক ও স্ট্যানফোর্ডের অধ্যাপক ডেভিড লারকার জানান, মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজনীতি ঢুকে পড়ায় তারা এখন ক্লান্ত। তার মতে, সাধারণ মানুষ এখন আর সিইও-দের কাছ থেকে কোনো ধরনের ‘লেকচার’ শুনতে ইচ্ছুক নন এবং অনেকেরই মনোভাব এখন ‘আমি এটি শুনতে চাই না’—এরকম।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য এই ফলাফল স্বস্তির হতে পারে, কারণ রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ কোম্পানির কোনো রাজনৈতিক অবস্থানের সাথে একমত না হলে সেই কোম্পানির পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছেন বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। ২০১৮ সালের তুলনায় এই হার এখন দ্বিগুণ। এর আগে টার্গেট এবং আনহেজার-বুশের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সামাজিক অবস্থানের কারণে বড় ধরনের ভোক্তা বয়কটের মুখে পড়েছিল। এমনকি কোনো কোম্পানি সরাসরি রাজনীতিতে না জড়িয়ে কেবল ব্র্যান্ডিং পরিবর্তন করলেও তা ইন্টারনেটে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে, যেমনটি গত বছর ক্র্যাকার ব্যারেলের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।
তবে সব প্রজন্মের মানুষের ভাবনা এক নয়। জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মের ৭০ শতাংশ মানুষ এখনও চান সিইও-রা সামাজিক, রাজনৈতিক এবং পরিবেশগত বিতর্কে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করুন। অন্যদিকে, বেবি বুমার প্রজন্মের মানুষের মধ্যে এই আগ্রহ সবচেয়ে কম। তবে জেন-জি প্রজন্মও মূলত সেই সব বিষয়েই মতামত শুনতে চায় যা ব্যবসার সাথে পরোক্ষভাবে জড়িত, যেমন—পরিবেশ রক্ষা, টেকসই উন্নয়ন, বিশুদ্ধ বাতাস ও পানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। লারকার মনে করেন, বর্তমান অস্থিতিশীল বিশ্বে এই প্রজন্মের মানুষ জানতে চায় সিইও-রা এসব বিষয়কে কীভাবে দেখছেন। সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতির শিক্ষা হলো—প্রধান নির্বাহীদের উচিত তাদের দর্শক এবং ব্যবসার প্রকৃতি বুঝে কথা বলা এবং কখন নীরব থাকা প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা।




