বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে পুনরায় ভারত ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)। ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাইয়ে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আয়োজিত একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকে এই দ্বিতীয় নোটিস দেওয়া হয়েছে। মার্কিন নাগরিক হওয়ার কারণে ইমরান ভারতে ‘ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া’ (ওসিআই) কার্ডের অধীনে বসবাস করছেন। নতুন এই নোটিসে তাঁর ওসিআই মর্যাদা কেন বাতিল করা হবে না, সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং জবাব দেওয়ার জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১০ অক্টোবর, যখন মুম্বাইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সিজেপির এক প্রতিবাদ সভায় যোগ দেন ইমরান। ওই কর্মসূচিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটন এবং তাঁর দূর সম্পর্কের বোন জেইন মেরি খান। সমাবেশ চলাকালীন পুলিশ তাঁদের তিনজনকে আটক করে, যদিও পরবর্তীতে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতেই গত ১৪ অক্টোবর তাঁকে প্রথমবার ভারত ছাড়ার নোটিস পাঠানো হয়, যেখানে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে প্রথম নোটিসটি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মুম্বাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা। আদালতের আবেদনের মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, তাঁকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিপরীতে নিজের অবস্থান জানানোর সুযোগও তাঁকে দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পারিবারিক পটভূমির কথা উল্লেখ করা হলে দেখা যায়, জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতার ভাগ্নে এই ইমরান খানের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ম্যাডিসনে। তাঁর বাবা অনিল পাল এবং মা নুহা খানের বিচ্ছেদের পর তিনি মুম্বাইয়ে বড় হন এবং মায়ের পদবি গ্রহণ করেন। হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে ‘দিল্লি বেলি’, ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’ এবং ‘জানে তু...ইয়া জানে না’-র মতো সিনেমার মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার ফলে তাঁর নাগরিক মর্যাদা এবং ভারতে অবস্থানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।




