স্পোর্টস বেটিং বা খেলাধুলার বাজি ধরার জন্য ব্যবহৃত প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা বারবারায় অনুষ্ঠিত 'ফরচুন মোস্ট পাওয়ারফুল উইমেন সামিট'-এ এই আশঙ্কার কথা জানান ডব্লিউএনবিএ-র ১১ বারের অল-স্টার এবং ২০১৬ সালের এমভিপি ন্নেকা ওগুমিকি। লস অ্যাঞ্জেলেস স্পার্কস-এর সাবেক এই ফরোয়ার্ড জানান, প্রেডিকশন মার্কেটের কারণে ডব্লিউএনবিএ খেলোয়াড়রা স্পষ্ট প্রতিকূল প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, অ্যাথলেটদের জন্য এটি মোটেও নিরাপদ কোনো জায়গা নয়। কোনো কিছুকে সরাসরি খারাপ বলা তিনি পছন্দ করেন না, তবে প্রেডিকশন মার্কেটে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে যে ধরণের কটু কথা বা ঘৃণা ছড়ানো হয়, তা মোকাবিলা করা খেলোয়াড়দের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণত অনলাইন স্পোর্টসবুক বা জুয়ার প্ল্যাটফর্মের বিকল্প হিসেবে এই প্রেডিকশন মার্কেটগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যেহেতু এগুলোকে জুয়া খেলার পরিবর্তে আর্থিক বিনিময় কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই অনেক কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ এড়িয়ে এগুলো কার্যক্রম চালাতে পারে। ডিউন অ্যানালিটিক্স-এর তথ্য অনুযায়ী, এনএফএল এবং এনসিএএ-এর ট্রেডিং ভলিউম বৃদ্ধির ফলে গত সপ্তাহে কালশি (Kalshi) এবং পলিমার্কেট (Polymarket)-এর সম্মিলিত সাপ্তাহিক লেনদেনের পরিমাণ রেকর্ড ২২.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
কেবল পেশাদার খেলোয়াড়রাই নন, কলেজ অ্যাথলেটরাও স্পোর্টস বেটিংয়ের কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ২০২৫ সালের এনসিএএ-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডিভিশন ১-এর পুরুষ বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের অর্ধেকেরও বেশি তাদের কোর্টের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপদস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৬ শতাংশ খেলোয়াড় জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক বা হুমকিমূলক বার্তা এসেছে তাদের কাছ থেকে, যারা ওই নির্দিষ্ট খেলায় বাজি ধরেছিলেন।
এই সংকট মোকাবিলায় এনবিএ এবং ডব্লিউএনবিএ যৌথভাবে একটি দায়িত্বশীল গেমিং ক্যাম্পেইন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল অন প্রবলেম গ্যাম্বলিং (NCPG)-এর সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তারা ভক্তদের স্পোর্টস বেটিংয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে ওগুমিকি মনে করেন, খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও ব্যাপক উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক নিরাপত্তা ঝুঁকি ও উদ্বেগের বিষয় প্রকাশ্যে আসেনি। যদিও প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ডব্লিউএনবিএ-র মাধ্যমে কিছু সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু তা পুরোপুরিভাবে খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ দূর করতে পারছে না, যা পরোক্ষভাবে তাদের খেলার মান বা পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।




