বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বৃদ্ধিতে পাঁচটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এই পাঁচটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় হলো—অবকাঠামো, প্রযুক্তি, শিক্ষক, তদারকি এবং শিক্ষাক্রম। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘মাঠপর্যায় থেকে সংস্কার: বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় তিনি এই কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে আয়োজন করে।

সভাপতির বক্তব্যে ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি পর্যায় একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই কোনো একটি নির্দিষ্ট খাতের উন্নয়ন ঘটিয়ে বাকিগুলোকে অবহেলা করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে না। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতের আলোকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন। আগামী ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যা হবে সম্পূর্ণ শিশুবান্ধব এবং শিখনফলভিত্তিক। এই নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে প্রায়োগিক শিখন, ডিজিটাল কনটেন্ট, খেলনাভিত্তিক শিক্ষা এবং ইংরেজি, গণিত ও বাংলা ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মানদণ্ডের বৈষম্য দূর করতে এবং শিখন-সময়ের ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে বলে তিনি জানান। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রাক-চাকরি প্রশিক্ষণ, পদায়ন, পেশাগত উন্নয়ন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শিক্ষক নীতিমালা’ তৈরির কাজ currently চলছে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, মর্যাদা রক্ষা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও জানান, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য রয়েছে সরকারের, যার প্রথম অর্থবছরেই ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতির পাশাপাশি শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং শিক্ষকসংকট দূর করে একটি মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সংলাপে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।