শরৎ শেষে প্রকৃতিতে শীতের আমেজ শুরু হলে ত্বকের স্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ঠান্ডা বাতাসের প্রভাবে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক থেকে প্রাকৃতিক তেল ও পানি দ্রুত শোষিত হয়, ফলে চামড়া ওঠা বা ঠোঁট ফাটার মতো সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এতে ত্বকের প্রতিরক্ষামূলক স্তর বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই শীত জেঁকে বসার আগেই রূপচর্চায় বিশেষ পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মিশেল হেনরির মতে, এই সময়ে গরমকালের মতো তীব্র ফেনা যুক্ত ক্লিনজার বা ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়। মুখ ধোয়ার পর ত্বক টানটান হওয়াকে অনেকে ইতিবাচক মনে করলেও, এটি আসলে ত্বকের রক্ষাকবচ ভেঙে দেয়। এর পরিবর্তে গ্লিসারিন, সেরামাইডস বা অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ ক্রিইমি এবং সাবানমুক্ত (সোপ-ফ্রি) ক্লিনজার ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইলিনয় ডার্মাটোলজি স্পেশালিস্টস’ একটি বিশেষ কৌশল বা ‘থ্রি-মিনিট রুল’ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, গোসল বা মুখ ধোয়ার পর তিন মিনিটের মধ্যে, অর্থাৎ ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। এতে লোমকূপের ভেতরে পানি আটকে থাকে। এই সময়ে হালকা জেল ব্যবহারের চেয়ে হাইলুরোনিক অ্যাসিড, শিয়া বাটার বা স্কোয়ালেন যুক্ত ঘন ক্রিম বেশি কার্যকর।
অন্যদিকে, ডা. নিকোল ওয়াই. লি সতর্ক করেছেন যে, প্রাক-শীতের সংবেদনশীল ত্বকে অতিরিক্ত স্ক্রাব বা তীব্র রেটিনয়েড ও অ্যাসিড ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। দানাযুক্ত ক্লিনজারের বদলে সপ্তাহে একবার মৃদু কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট (যেমন ল্যাকটিক অ্যাসিড বা পিএইচএ) ব্যবহার করা যেতে পারে, যা মরা কোষ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াবে।
ত্বকের অভ্যন্তরীণ যত্নে জার্মানির ‘লুই উইডমার’ গ্রুপের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কেবল বাহ্যিক ক্রিম মাখলেই হবে না, সঠিক পুষ্টিও প্রয়োজন। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডস সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ, তিসি, চিয়া বীজ এবং ভূমধ্যসাগরীয় বা মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট ত্বকের লিপিড ব্যারিয়ার মজবুত করে। পাশাপাশি প্রতিদিন ২ থেকে ২.৫ লিটার পানি পান করা আবশ্যক।
হাতের পাতলা চামড়া ও ঠোঁটের সুরক্ষায় যুক্তরাজ্যের ‘গ্রেটার ল্যাঙ্কাশায়ার হসপিটাল’-এর নির্দেশিকায় প্রতিবার হাত ধোয়ার পর হ্যান্ড ক্রিম এবং পেট্রোলিয়াম জেলি বা স্কোয়ালেন যুক্ত লিপবাম ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। রাতে ভ্যাসলিন মেখে সুতির মোজা পরে ঘুমালে পায়ের চামড়া ফাটা রোধ করা সম্ভব।
গোসলের বিষয়ে ভারতের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জয়শ্রী শরদ জানান, অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল앗 ধুয়ে ফেলে। তাই ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে কুসুম গরম পানিতে গোসল শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা ৪০-৬০ শতাংশ রাখতে ‘কুল-মিস্ট হিউমিডিফায়ার’ ব্যবহার করা এবং রোদ কম থাকলেও ‘এসপিএফ ৩০+’ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।




