ফিফা এবং উয়েফার মধ্যে বিদ্যমান চাপা ক্ষোভ ও অভিযোগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ফিফার কাছে ৪২টি প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। ১৯ অক্টোবর ফিফা মহাসচিব মাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে এই প্রশ্নগুলো উত্থাপন করা হয়েছে, যা ইএসপিএন-এর নজরে এসেছে। উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থিওডোর থিওডোরিডিসের লেখা এই চিঠিতে ফিফার শাসনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

চিঠির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনা। ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিশ্বকাপের আংশিক স্বত্ব বিক্রির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটির ব্যর্থতা এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উয়েফা। বিশেষ করে, ফিফা কাউন্সিলের সাথে কোনো পূর্ব আলোচনা ছাড়াই জশ কুশনারের নেতৃত্বাধীন প্রাইভেট ইক্যুইটি কোম্পানি 'থ্রাইভ ক্যাপিটালের' কাছে কীভাবে একচেটিয়া অধিকার দেওয়া হলো এবং এই প্রকল্পের সূচনা কে করেছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে এই এফএফই (ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ) পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়েছে, তবুও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ফিফা কাউন্সিলকে কেন রাখা হয়নি, সেই ব্যাখ্যা চেয়েছে উয়েফা।

কেবল আর্থিক বিষয় নয়, রাজনৈতিক প্রভাব এবং মাঠের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারাইন বালোগনের লাল কার্ড বাতিলের প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছে উয়েফা। এমনকি, এই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ইনফান্তিনোর ফোন কলে কী কথা হয়েছিল, তার বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রতিষ্ঠা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তা প্রদানের সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে চিঠিতে।

এর আগে এফএফই প্রকল্পের একতরফা প্রচেষ্টার প্রতিবাদে ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দিয়েছিল উয়েফা। যদিও পরবর্তীতে ফিফার পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয় এবং হুমকি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, তবুও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এবং ২০২৭ সালের মার্চে তার পুনঃনির্বাচনের প্রচেষ্টার বিষয়ে উয়েফার বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে। থিওরিডিস চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, কাউন্সিল সদস্যদের করা মৌলিক প্রশ্নগুলোর কোনো সন্তোষজনক উত্তর এখন পর্যন্ত মেলেনি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করা হয়নি। ফিফার পক্ষ থেকে ভুল স্বীকার এবং সংস্কারের কথা বলা হলেও, প্রকৃত সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে নেওয়া হয়েছিল তার স্বচ্ছতা চাওয়া হয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর সোমবারের মধ্যে সকল সহায়ক নথিসহ প্রতিটি প্রশ্নের সারগর্ভ লিখিত উত্তর জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে উয়েফা।