মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর ঘোষণা করেছেন যে, ব্রিটিশ পপ তারকা এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এর উদ্বোধনী পরিবেশনায় পারফর্ম করে তিনি যে ১০ লাখ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন, তার পুরো অর্থই ফিলিস্তিনি জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। গাজায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী ছয়টি সংস্থায় এই অর্থ সরাসরি প্রদান করবেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। সেখানে এড শিরানের কনসার্টে পারফর্ম করার সময় মঞ্চ থেকে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন ম্যাকলমোর। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীদের উৎসর্গ করা ‘হিন্দস হল’ গানটি পরিবেশন করেন, যেখানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। পরিবেশনার সময় পর্দার পেছনে গাজার ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য প্রদর্শিত হয়। এই ঘটনার পরপরই তাকে শিরানের সংগীত সফর থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় ম্যাকলমোর জানান, ফিলিস্তিনিরা এখনও সামরিক দখলদারিত্বের মুখে জীবন সংগ্রাম ও স্বাধীনতার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তাই তাদের জীবন রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এই মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি ইসরায়েলের বিশিষ্ট দাতা এবং নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের বিলিয়নেয়ার রবার্ট ক্রাফটকে তার অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দিতে আহ্বান জানান।

ম্যাকলমোরের আহ্বানের জবাবে রবার্ট ক্রাফট এক বিবৃতিতে জানান, তিনি এবং এড শিরান প্রত্যেকে ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) ডলার করে আঞ্চলিক মানবিক সহায়তার জন্য দান করবেন। তবে কোন নির্দিষ্ট সংস্থায় এই অর্থ দেওয়া হবে, তা জানানো হয়নি। ক্রাফট উল্লেখ করেন, প্রতিটি জীবনই রক্ষার যোগ্য এবং তিনি বরাবরই মানুষে-মানুষে সেতু তৈরির কাজে বিশ্বাসী। তিনি আরও জানান, ম্যাকলমোর অনুরোধ করার আগেই এড শিরান তাকে ফোন করে এই সংকটে সহায়তার কথা বলেন এবং ২০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে অনুরোধ করেন।

ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্যান্য সহশিল্পীরা। তারা প্রতিবাদস্বরূপ এই সংগীত সফর থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন পপ তারকা বিলি আইলিশের ভাই ফিনিয়াস, আইরিশ সংগীতশিল্পী অ্যারন রো, ডেনমার্কের ব্যান্ড লুকাস গ্রাহাম এবং আইরিশ ফোক ব্যান্ড বেওগাও। ফিনিয়াস এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেন, নিপীড়িত মানুষের হয়ে কথা বললে শিল্পীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।