ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার বাঁখুণ্ডা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে রাজমিস্ত্রি ও দিনমজুরসহ দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার সকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে—রাজমিস্ত্রি মো. শাওন হোসেন (২৪) এবং দিনমজুর হৃদয় শেখ (২০)। শাওন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাসিন্দা এবং হৃদয় সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের চর মঙ্গলকোট গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টার দিকে মো. কাওসার মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনের একটি নতুন সেপটিক ট্যাংকের ছাদ থেকে বাঁশ সরানোর জন্য ভেতরে নামেন রাজমিস্ত্রি শাওন। ভেতরে প্রবেশের কিছু সময় পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শাওনকে উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করার পর হৃদয় নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা অত্যন্ত বিষাক্ত কোনো গ্যাসের কারণে তারা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাওনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ওইদিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হৃদয়েরও মৃত্যু ঘটে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শাওনের মরদেহ বুধবার এবং হৃদয়ের মরদেহ বৃহস্পতিবার বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।