রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর এবার তার বাবারও মৃত্যু হয়েছে। ৫৫ বছর বয়সী মো. সিদ্দিক বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ২টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো দুই জনে। এর আগে ২৬ বছর বয়সী ইমন নামের এক যুবক, যে সৌদি আরব প্রবাসী ছিল, শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়ে মারা যায়।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকার নিজ বাড়িতে ইমন নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় তার বাবা সিদ্দিকসহ পরিবারের আরও চারজন দগ্ধ হন। দগ্ধদের মধ্যে ইমনের ফুফাত বোন তানিয়া আক্তার (২০), চাচাতো ভাই রাজিব (৩৮) এবং ফুফাত ভাই আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) রয়েছেন। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, সিদ্দিক হাসপাতালে ভর্তির সময় তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। বর্তমানে চিকিৎসাধীন তিন সদস্যের মধ্যে তানিয়ার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, কারণ তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং ধলুর ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক তিক্ততার কথা জানিয়েছেন স্বজনরা। জানা গেছে, পারিবারিক কলহের কারণে ১৮ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছিলেন সৌদি প্রবাসী ইমন। ঘটনার সূত্রপাত হয় বাড়ির সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখা নিয়ে। এই বিষয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। তানিয়া ময়লা পানি পরিষ্কার করতে বললে সুলতানা সেই বিষয়টি সৌদি আরবে থাকা ভাই ইমনকে জানান। এই খবর পাওয়ার পর ইমন দেশে ফেরেন এবং ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে নিজের ও অন্যদের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। দগ্ধদের মধ্যে রাজিব পেশায় মেকানিক, ধলু ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজের একজন স্নাতক শিক্ষার্থী।




