পাবনা জেলায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করার অভিযোগে নারী ও তার স্বামীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এই বিশেষ অভিযানে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করার পাশাপাশি অপরাধ কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা এবং কিছু অর্থ জব্দ করা হয়েছে। পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকেলে সদর থানার শ্রীপুর বাজার এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় হলো— মোছা. পলি খাতুন, তার স্বামী মো. জামাল হোসেন (৪৩) এবং সহযোগী মো. উকিল সর্দার (৪৩), যারা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টার দিকে মো. কারিবুর নামের এক ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন মেরামত করার জন্য বাড়ি থেকে শহরের দিকে রওনা হয়েছিলেন। দুপুর ১টার দিকে তিনি তার ছেলেকে ফোন করে জানান যে, শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড় এলাকায় কিছু লোক তাকে আটকে রেখেছে। তারা হুমকি দেয় যে, ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ না দিলে তাকে মেরে ফেলা হবে। এই ঘটনার পর আতঙ্কিত স্বজনরা দ্রুত পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ডিবি পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় শ্রীপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে কারিবুরকে উদ্ধার করা হয় এবং দুজন সহযোগী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল পরিকল্পনাকারী পলি খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বিষয়ে ওসি আব্দুস সালাম বলেন, এই পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। পলি খাতুনকে ব্যবহার করে গত ১৫ দিন ধরে কারিবুরের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করা হয়। এরপর দেখা করার কথা বলে তাকে শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেয় এবং বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে বেড়ায়। এরপর শ্রীপুর বাজারের একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে তার স্বজনদের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশ ভিকটিমের কাছ থেকে ছিনতাই করা চার হাজার টাকা উদ্ধার করেছে এবং অপরাধে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করে বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।