দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়ে আসছেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেলর। আজ হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামার মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলে দিলেন ভারতের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে। ২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল টেলরের; তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮। সেই পথচলা আজ ২২ বছর ১৪৮ দিনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারের স্থায়িত্ব ছিল ২২ বছর ৯১ দিন। ফলে ছেলেদের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এখন সবচেয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মালিক টেলর।

তবে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে এই পরিসংখ্যানের শীর্ষে এখনো রয়েছেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটার মিতালি রাজ। ১৯৯৯ সালে অভিষেকের পর ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি ওয়ানডে খেলেছেন — মোট ২২ বছর ২৭৪ দিন। টেলরের এই অর্জন তাই শুধু পুরুষ বিভাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

টেলর ও টেন্ডুলকারের ক্রীড়া জীবন তুলনা করলে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপট। বিশ্ব ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের অবস্থান যেখানে, সেখানে টেলরকে মোকাবিলা করতে হয়েছে অনেক বেশি প্রতিকূলতা। টেন্ডুলকার বছরে গড়ে ২১টি ওয়ানডে খেলেছেন, অন্যদিকে টেলরের গড় প্রতি বছর ১০টিরও কম। ২০২৫ সালের আগস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলার পর প্রায় ১৩ মাস ধরে কোনো আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচ খেলেননি তিনি। চোট ও সূচির দীর্ঘ বিরতি — সবকিছু সামলে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখাই তার বড় সাফল্য।

২০০৪ সালের সেই প্রথম ম্যাচের পর আজ পর্যন্ত টেলর জিম্বাবুয়ের হয়ে ২০৮টি ওয়ানডে খেলেছেন। ২০৭ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৬ হাজার ৭০৪ রান এবং ১১টি সেঞ্চুরি। টেস্ট ক্রিকেটে ৩৭ ম্যাচে ২ হাজার ৪২০ রান করেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ৫৮ ম্যাচে ১ হাজার ১৮৫ রান তাঁর নামের পাশে। তিন সংস্করণেই দলের মেরুদণ্ড হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের উত্থান-পতনের সাক্ষী টেলর। দল যখনই সংকটে পড়েছে, তিনিই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজকের এই রেকর্ড কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; বরং দেশের ক্রিকেটের ট্র্যাজেডি ও সাহসিকতার প্রতীক হয়ে থাকল তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা।