আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি নিজেই। সেই সঙ্গে স্পেনের তরুণ তারকা গাভির বিরুদ্ধে মাত্র এক ম্যাচের শাস্তি কেন দেওয়া হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। সম্প্রতি বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ঘরোয়া ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই মন্তব্য করেন পারেদেস। তাঁর ভাষ্য, ‘শাস্তিটা আমার কাছে অতিরঞ্জিত মনে হচ্ছে। অদ্ভুত লাগছে, গাভি আমাকে বুকে ঘুষি মেরেছিল, অথচ ওর শাস্তি মাত্র এক ম্যাচ।’

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ জুলাই নিউজার্সির বিশ্বকাপ ফাইনালে। সেদিন স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে মারামারিতে গড়ায়। সেই সংঘর্ষে স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে ঘাড় ধরে ফেলে দেন পারেদেস। পরে গাভির সঙ্গে ধস্তাধস্তিতেও জড়িয়ে পড়েন তিনি। এসব ঘটনায় ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাঁকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় আটকে দেয়।

শুধু পারেদেসই নন, ওই মারামারির ঘটনায় আরও কয়েকজন আর্জেন্টাইন শাস্তির মুখে পড়েছেন। রদ্রিকে আঘাত করার কারণে নাহুয়েল মলিনা সাত ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। থিয়াগো আলমাদা এক ম্যাচের শাস্তি পেয়েছেন। আর দানি ওলমোকে ঘুষি মারার দায়ে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে এই চারজনের জন্য ইতিমধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবরও এসেছে। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা জানিয়েছে, তাঁদের নিষেধাজ্ঞার ম্যাচগুলো ‘এ’ শ্রেণির প্রীতি ম্যাচেও গণনা করা যাবে। ফলে শুধু বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বসে না থেকে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতেও নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেলার সুযোগ পাবেন তাঁরা।

এদিকে, ফিফার শাস্তির পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছিলেন গাভি। তাঁর মতে, পারেদেসসহ আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তবে সেই বক্তব্যের পরও নিজের শাস্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পারেদেস। চলতি বছরের ফুটবল ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আরও দুটি আন্তর্জাতিক উইন্ডো বাকি। সেই দুই উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা সর্বোচ্চ ছয়টি ম্যাচ খেলতে পারবে। ফলে আপিলের মাধ্যমে শাস্তি কমানো না গেলেও পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বেশ বড় অংশ প্রীতি ম্যাচেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তবে এই নিষেধাজ্ঞা ঘিরে দুই দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা যে এখনো কমেনি, তা স্পষ্ট।