নেতৃত্ব কোনো নির্দিষ্ট সময়ের প্রশিক্ষণ নয়, বরং এটি একটি আজীবন চর্চা। এই কথাটি উল্লেখ করে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের (বিওয়াইএলসি) ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনিতে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আবদুল মঈন খান। গত মঙ্গলবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, এই প্রশিক্ষণটি যেন শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল একটি সূচনা হয়। আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব বিকাশে বিওয়াইএলসির প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি গ্র্যাজুয়েটদের প্রতিদিন নিজেকে প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত এই প্রোগ্রামের আওতায় 'বিল্ডিং ব্রিজেস থ্রু লিডারশিপ ট্রেনিং' (বিবিএলটি) এবং এর জুনিয়র সংস্করণ 'বিবিএলটিজে' সম্পন্ন করেন শিক্ষার্থীরা। মাদ্রাসা, ইংরেজি মাধ্যম এবং বাংলা মাধ্যমের মোট ৫২১ জন প্রশিক্ষণার্থী এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। এই নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং নেতৃত্বের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক এবং বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বোরিস ভ্যান বোমেল বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, তরুণদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যেন তারা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং অর্থবহ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে। অন্যদিকে, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি তরুণদের জনকল্যাণে কাজ করার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যখন একজন ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামষ্টিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তখনই প্রকৃত নেতৃত্বের সূচনা হয়।
বিওয়াইএলসির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারপারসন ইজাজ আহমেদ বর্তমান সময়ের তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু পরিবর্তন এবং গোষ্ঠীকেন্দ্রিক মানসিকতার কথা বলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন যে, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করলেও চিন্তাশক্তির নিয়ন্ত্রণ যেন যন্ত্রের হাতে ছেড়ে দেওয়া না হয়। তার মতে, যারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে সক্ষম হবে, ভবিষ্যৎ তাদেরই। বিক্ষিপ্ত মনোযোগের যুগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি মনে করিয়ে দেন।




