নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ফলে চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এখনো শত শত শ্রমিক একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল নেটওয়ার্কে আটকা পড়ে আছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দিনরাত পরিশ্রম করে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন। সম্প্রতি একটি হাইড্রো-পাওয়ার টানেল থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যদিও তারা সেখানে এক সপ্তাহের বেশি সময় অতিবাহিত করেছিলেন। এছাড়া, আংশিকভাবে মাটির নিচে চাপা পড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চান্দিকা শ্রেষ্ট নামের এক নারীকে, যাকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে অনেক পরিবার এখনো তাদের প্রিয়জনের মরদেহর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

বিবিসি দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধি আযাদে মোশিরি নেপালের সংকুচিত ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার চেষ্টা করা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী টানেলগুলোতে এখনো অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা সাহায্য পাওয়ার আশায় হেলিকপ্টার পাইলট বিভেক খাড়কার মতো ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করছেন। তবে অনির্দিষ্ট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, তিব্বতের বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে নিখোঁজদের খোঁজে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। নেপালে অবস্থিত একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাইফুরুবেসি শহরের মতো এলাকাগুলো এই বন্যায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সানো বারখু গ্রামের মতো উঁচু স্থান থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই ভয়াবহ বন্যার দৃশ্যগুলো চীনের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেটে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এলাকাটি পুনরায় গড়ে তোলার প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।