নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে বিদায়ী ও নবাগত সিভিল সার্জনের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় অনুষ্ঠানটি বাতিলের পথে। গত বৃহস্পতিবার একটি হাতে লেখা চাঁদা তোলার নোট গণমাধ্যমের হাতে পৌঁছালে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই নোটে সোমবার অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা উল্লেখ করে প্রত্যেকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ নেওয়ার নির্দেশনা ছিল, পাশাপাশি নার্সদের নামের তালিকাও সংযুক্ত করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১২০ জন নার্স কর্মরত আছেন। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা হারে চাঁদা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বিকেল পর্যন্ত নার্সদের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন নার্স জানান, তাদের প্রত্যেককে এই অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অনেকে এই অর্থ দিতে অনীহা প্রকাশ করায় নার্সদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, হাসপাতালে চাকরিরত নার্সদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের বিদায় বা যোগদানের কোনো সম্পর্ক নেই, তাই কেন তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এ বিষয়ে হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার শিখা রাণী মণ্ডল বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের যৌথ উদ্যোগেই অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেবা কার্যক্রম যেন বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে হালকা আয়োজনের কথা ভাবা হয়। জনপ্রতি এক হাজার টাকা চাঁদা চাওয়া হলেও এটি বাধ্যতামূলক নয় — যিনি স্বেচ্ছায় দিতে চান, তিনি দেবেন। তবে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হাসানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
আরএমও নাজমুল হাসান জানান, উপহার ও খাওয়াদাওয়ার খরচের জন্যই চাঁদা তোলা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমাদের কোনো ফান্ড নেই। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে চাঁদা দিয়ে নিজেদের উদ্যোগেই আয়োজনটি করা হচ্ছিল। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় অনুষ্ঠানটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”
বিদায়ী সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কখনোই কোনো বিদায় অনুষ্ঠান চাননি। তাঁর ভাষ্য, বিদায় উপলক্ষে চাঁদাবাজি করাটা সম্পূর্ণ অনৈতিক কাজ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না এবং যাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত। এ ব্যাপারে আরএমও নাজমুল হাসানের কাছে বিস্তারিত জানতে চান তিনি।
অন্যদিকে নবাগত সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, চাঁদা আদায়ের বিষয়টি তাঁর অজানা ছিল। তিনি বলেন, “ঘরোয়া একটি অনুষ্ঠানের কথা হয়েছিল। কিন্তু নার্সদের থেকে চাঁদা তোলার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এটি আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। এই অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিত থাকা উচিত হবে না।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের শুরু থেকে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মশিউর রহমান। গত ২০ আগস্ট তাঁকে ওএসডি করা হয় এবং তাঁর স্থলে এস এম সাখাওয়াত হোসেনকে নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই ঘটনা নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য প্রশাসনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।




