রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নরওয়ের রাজা হারাল্ড পঞ্চমের শারীরিক অবস্থা সাম্প্রতিক সময়ে আরও অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে তিনি অসলো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের অন্তর্গত রিকশাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে তাকে রক্তপ্রবাহে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। রাজবাড়ি স্পষ্ট করে বলেছে, অবস্থার এই অবনতি সত্ত্বেও চিকিৎসায় তিনি সাড়া দিচ্ছেন; তবে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি হাসপাতালেই অবস্থান করবেন এবং রাজকীয় দায়িত্ব থেকে ছুটিতে থাকবেন।

৮৯ বছর বয়সী এই রাজা ১৯৯১ সাল থেকে নরওয়ের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং একই সঙ্গে অসুস্থতাজনিত ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়। তার অনুপস্থিতিকালে ৫৩ বছর বয়সী যুবরাজ হাকন রাজপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সম্প্রতি রাজা হারাল্ডকে একটি বিরল রক্তজনিত রোগ হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়ার চিকিৎসার জন্য কর্টিসোন প্রয়োগ করা হয়েছে। এই রোগে শরীরের লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা হ্রাস পায়, যা ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ সৃষ্টি করে। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে রাজবাড়ির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, বয়সের কথা বিবেচনা করে তিনি সরকারি অনুষ্ঠানে স্থায়ীভাবে অংশগ্রহণ কমিয়ে দেবেন। সেই একই বছরে মালয়েশিয়ায় ছুটির সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হৃদযন্ত্রের ছন্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি পেসমেকার বসানো হয়।

২০২৬ সাল নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও ঘটনাবহুল একটি বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যুবরাজ হাকনের স্ত্রী যুবরাজ্ঞী মেট-ম্যারিট জুন মাসে ফুসফুসের একটি বিরল রোগ পালমোনারি ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর ফুসফুস প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার করান। ২০১৮ সালে তার এই রোগ প্রথম ধরা পড়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রতিস্থাপনের মাত্র দুই দিন আগে মেট-ম্যারিটের ছেলে মারিউস বর্গ হোইবি দুটি পৃথক ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তিনি সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন এবং তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

হোইবি বর্তমানে ২৯ বছর বয়সী। তার মা যখন যুবরাজ হাকনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। তিনি নিজে কোনো রাজকীয় উপাধিধারী নন এবং রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন না। এছাড়া বছরের শুরুতে প্রকাশিত কিছু নথি থেকে জানা যায়, মেট-ম্যারিটের সঙ্গে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ ও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পরবর্তীতে তিনি নরওয়ের রাজা ও রাণীর কাছে তার তিন বছরের বন্ধুত্বের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নিজের ‘দুর্বল বিচারবুদ্ধির’ কথা স্বীকার করেন। একটি জাতীয় টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন যে, এপস্টিনের সঙ্গে তার কখনো সাক্ষাৎ হওয়া উচিত ছিল না এবং তিনি এই সম্পর্কের জন্য গভীর অনুতাপ প্রকাশ করেন।