মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের কাননীসার গ্রামে পারিবারিক বিরোধের কারণে এক দুই বছর বয়সী শিশুকে মাটিতে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তার দাদির বিরুদ্ধে। গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার চার দিন পর, শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটির মা এই বিষয়ে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত দাদির নাম মুক্তা বেগম (৪৫), তিনি ওই গ্রামের তোফায়েল খানের স্ত্রী। অভিযোগ করা হয়েছে যে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মুক্তা বেগম শিশুটিকে দুই হাত দিয়ে শূন্যে তুলে সজোরে মাটিতে ছুড়ে ফেলেন। এতে শিশুটির কোমরে গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনার পরপরই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে তার চিকিৎসা করা হয়।
শিশুটির মায়ের দাবি, বিয়ের পর থেকেই তিনি মুক্তা বেগমের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। সোমবারের সেই ঘটনায় তিনি জানান, তার সন্তানের কান্নার আওয়াজ পেয়েই তিনি দৌড়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এই ക്രুর ঘটনার সময় তার স্বামী এবং শ্বশুর কেউ কোনো প্রতিবাদ জানাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটার পর এর সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইউসুফ সাগর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটি অবুঝ শিশুর প্রতি এমন আচরণ অত্যন্ত অমানবিক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে শিশুটির বাবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। শ্রীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা জানিয়েছেন যে, তারা ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করেছেন এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




