ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ফরহাদ হোসেন নামে এক যুবককে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে নিহতের বাবা আবদুস সাত্তার বাদী হয়ে থানায় এ মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর বিকেল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বুধবার রাত প্রায় ১০টায় মুক্তাগাছা পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকায় হামলার শিকার হন ফরহাদ। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মামলার এজাহারে বাদী আবদুস সাত্তার দাবি করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ফরহাদ বেকার মুক্তি, মাদকবিরোধী, বাল্যবিবাহবিরোধীসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হলে দুই ব্যক্তি তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, রাত ১০টা ২১ মিনিটে বাসার সামনে ওই দুই ব্যক্তি ফরহাদের মুখে পাউডারজাতীয় কিছু ঢেলে দেয় এবং কাপড় দিয়ে মুখ চেপে ধরে। এরপর তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। আগুনে দগ্ধ হয়ে ফরহাদ বাঁচার চেষ্টায় পাশের ঝোপঝাড়ে গড়াগড়ি দেয়। কিন্তু আগুন নেভাতে না পেরে সে রাস্তায় ছুটে গিয়ে 'বাঁচাও বাঁচাও' বলে চিৎকার করতে থাকে।

বাদী আবদুস সাত্তার বলেন, চিৎকার শুনে তিনি ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তার ছেলেকে উদ্ধার করেন। শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যাওয়া অবস্থায় তাকে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে থানার পুলিশ ও তারা জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফরহাদ জানায়, অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তাকে হত্যার জন্য পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিবারের অভিযোগ, মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণেই ফরহাদকে এই হত্যার শিকার হতে হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন কোণ থেকে তদন্ত চালাচ্ছে।