আর্জেন্টিনার ফুটবল জগতের শ্রেষ্ঠ তারকাদের একজন ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর সাথে জড়িত মামলার বিচার প্রক্রিয়া নতুন এক বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রতিবেদনগুলো যে তাঁর নয়, বরং তাঁর প্রয়াত বাবার, তা সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে আসা একটি চিঠিতে আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান ‘সুইস মেডিক্যাল’ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলটি স্বীকার করেছে।
২০২০ সালে ৬০ বছর বয়সে হৃদরোগ ও পালমোনারি এডিমায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ম্যারাডোনা। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের মাত্র দুই সপ্তাহ পর বুয়েনস এইরেসের তিগ্রে এলাকার একটি ভাড়া বাসায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে চিকিৎসায় যথাযথ অবহেলার অভিযোগ তোলা হয় তাঁর মেডিকেল টিমের বিরুদ্ধে, যদিও তারা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই মামলায় মোট সাতজন স্বাস্থ্যকর্মী বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন।
তদন্তকারী মেডিকেল কমিশনের কাছে যে পরীক্ষার নমুনা সরবরাহ করা হয়েছিল, সেগুলোতে নাম ছিল ‘ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা’। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই রিপোর্টগুলো ছিল তাঁর বাবা ডিয়েগো সালুস্তিয়ানো ম্যারাডোনার, যিনি ২০১৫ সালে মারা গিয়েছিলেন। একই নাম হওয়ার কারণেই এই গোলযোগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত সাত স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে একজনের আইনজীবী এই অসঙ্গতিটি প্রথম নজরে আনেন।
বিচার চলাকালে ম্যারাডোনার কিডনির স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছিল। এক নেফ্রোলজিস্ট আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, চিকিৎসকদের উচিত ছিল ম্যারাডোনার কিডনির বিষয়ে আরও নজর দেওয়া। কিন্তু পরে জানা যায়, ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মূলত ভুল পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতেই তাঁর বিশ্লেষণ তৈরি করেছিলেন। এই ঘটনার ফলে আদালতের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে জটিলতায় পড়েছে।
এই ভুলের কারণে বিচার কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে গত বছর বিচারকদের মধ্যে একজনের স্বার্থের সংঘাতের কারণে প্রথম বিচারটি ভেস্তে গিয়েছিল। এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া এই দ্বিতীয় বিচার প্রক্রিয়া আগামী বৃহস্পতিবার পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিচার চলবে অন্তত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। ম্যারাডোনার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে এই বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁর ভক্ত ও পরিবারের সদস্যরা।




