রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত বেসরকারি সংস্থা 'রাড্ডা এমসিএইচ'-এর কার্যালয় রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে এই ভয়াবহ হামলায় একটি পাকা এবং তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত প্রায় ২৫০ জনের একটি দল নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে এই নারকীয় তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা কেবল ভবনটিই ভেঙে ফেলেনি, বরং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং টিকাদানের প্রচুর সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে।
ঘটনার পর হামলাকারীরা ওই ১০ কাঠা জমির সামনে ‘সম্মাননা দোকানদার সমিতি লিঃ’-এর একটি সাইনবোর্ড বসিয়ে দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর দাবি, ওই জমিটি দখল করার উদ্দেশ্যেই স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি প্রদান এবং আনুমানিক দেড় কোটি টাকার বেশি সম্পদ ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে নাসরিন আখতার এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে সরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করে আসছিল। তিনি একে নিছক ডাকাতি নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই বর্বর আক্রমণের ফলে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে হানিফ মিয়ার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।




