চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে নামার সময় মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন রবিন হোসেন (৩৬) নামের এক যুবক। শুক্রবার বেলা ১১টার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ রবিনের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় হলেও তিনি পরিবারের সাথে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখানে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিন এদিন সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে 'মকবুল-২' নামের একটি চাঁদপুরগামী লঞ্চে আরোহণ করেন। ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকায় পৌঁছে তিনি প্রথমে লঞ্চ থেকে পন্টুনে নেমেছিলেন। তবে ভুলবশত নিজের একটি ব্যাগ লঞ্চেই রেখে যাওয়ায় তিনি পুনরায় সেটি সংগ্রহ করতে লঞ্চে ওঠেন। ব্যাগটি নিয়ে পুনরায় পন্টুনে লাফ দিয়ে নামার মুহূর্তেই লঞ্চটি ছেড়ে দেয়, যার ফলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ব্যাগসহ মেঘনা নদীতে পড়ে যান এবং মুহূর্তেই নিখোঁজ হয়ে যান।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দুপুর ১২টার পর থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি, চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ডুবুরি দল এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর তিনটি দল সম্মিলিতভাবে অনুসন্ধান চালায়। তবে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তাকে জীবিত বা মৃত কোনো অবস্থাতেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন জানান, অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ঘটনার প্রেক্ষিতে লঞ্চের সুকানি মো. মনির হোসেন ও তার সহযোগী মো. সুমন মিয়াকে লঞ্চসহ আটক করা হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
এদিকে, নিখোঁজ রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার তার স্বামীর খোঁজে লঞ্চঘাটে ছুটে আসেন। তিনি জানান, রবিন দীর্ঘকাল বেকার থাকার কারণে নাসরিনকে তার বাবার বাড়িতে (মতলব উত্তর উপজেলার নবীপুর গ্রাম) রেখেছিলেন। তবে দুই মাস আগে রবিন নতুন চাকরি পাওয়ার পর স্ত্রী ও সাড়ে চার বছরের সন্তানকে সাথে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। স্বামীর করুণ পরিণতিতে নাসরিন কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার আহাজারিতে পুরো লঞ্চঘাট এলাকা শোকাতুর হয়ে ওঠে।




