সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশির দশকের প্রতি মানুষের নস্টালজিয়া প্রবল। এই আবহে অ্যাপল টিভি+ এ গত ৪ মে মুক্তি পেয়েছে ‘মে ডে’ ছবিটি। পরিচালক জন ফ্রান্সিস ড্যালি ও জোনাথন গোল্ডস্টেইনের এই ছবিটি অ্যাকশন-কমেডি ধাঁচের, যার পটভূমিও সেই আশির দশক। মুক্তির পর থেকেই এটি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সিনেমার কেন্দ্রে রয়েছেন মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলট ট্রয় কেলি, যাকে অভিনয় করেছেন রায়ান রেনল্ডস। ১৯৮৭ সালে সোভিয়েত আকাশসীমায় একটি গোপন মিশনে ঢুকে তাঁর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। আহত অবস্থায় তিনি পড়ে থাকেন বরফঢাকা এলাকায়। সেখানেই তাঁর দেখা হয় সাবেক কেজিবি অফিসার নিকোলাই উস্তিনভের সঙ্গে, চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন কেনেথ ব্রানা। নিকোলাই আমেরিকান সংস্কৃতির ভক্ত, সোভিয়েত ব্যবস্থায় হতাশ। তিনি কেলিকে আশ্রয় দেন, কিন্তু কেজিবি অফিসার আলেকজান্ডার ভলকভ (মারচিন দোরচিনস্কি) তাঁদের পেছনে লেগে পড়ে। ফলে দুই বিপরীত মেরুর মানুষ একসঙ্গে পালিয়ে মস্কোর মার্কিন দূতাবাসে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।
ছবিটির দৈর্ঘ্য ১ ঘণ্টা ৫১ মিনিট। পরিচালকদ্বয় ‘টপ গান’-এর অ্যাকশন, আশির দশকের বাডি কমেডির হাস্যরস আর শীতল যুদ্ধের আবহ একসাথে মিশিয়েছেন। ফলে এটি খুব মৌলিক না হলেও বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। বরফঢাকা বন, গাড়ি ধাওয়া, ট্রেন ও উড়োজাহাজের দৃশ্যগুলো গল্পকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়। কমেডির মুহূর্তগুলোও প্রাণবন্ত, বিশেষ করে লুকিয়ে থাকা বা ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত হওয়ার মতো দৃশ্যগুলো দর্শককে হাসায়।
রেনল্ডস ও ব্রানার রসায়নই ছবির প্রাণ। ব্রানা চরিত্রটিতে বিষণ্নতা, একাকিত্ব, বিদ্রোহ ও শিশুসুলভ কৌতূহল মিশিয়ে দিয়েছেন। ৬৫ বছর বয়সেও অ্যাকশন দৃশ্যে তিনি দারুণ পারদর্শী, যা দেখে অবাক হতে হয়। তাঁর চরিত্রটি একই সঙ্গে হাস্যরসাত্মক ও মানবিক হয়ে উঠেছে। রেনল্ডস অবশ্য তাঁর চেনা ব্যক্তিত্বেই অভিনয় করেছেন; আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি, ব্যঙ্গাত্মক সংলাপ—সবই পরিচিত। ফলে কেলিকে ‘রায়ান রেনল্ডস চরিত্রে রায়ান রেনল্ডস’ বলেই মনে হয়। ভিলেন হিসেবে মারচিন দোরচিনস্কি প্রচলিত ‘রুশ ভিলেন’ ছাঁচে না গিয়ে সংযত অভিনয় করেছেন, যা ছবিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে ছবিটির কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। নিকোলাইয়ের মেয়ে আনা (মারিয়া বাকালোভা) এবং কেলির বাবা হ্যারল্ড (ডেভিড মোর্স) চরিত্র দুটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত, কিন্তু পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। এছাড়া আশির দশকের প্রতি অতিরিক্ত সচেতনতা কখনো কখনো গল্পকে স্বাভাবিকতার বদলে ‘নস্টালজিয়ার প্রদর্শনী’ করে তোলে। তবে ‘মে ডে’ ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ হতে চায়নি; বরং ‘টপ গান’, ‘মিডনাইট রান’-এর মতো পুরোনো ছবির প্রতি ভালোবাসা থেকে নিজস্ব মিশ্রণ তৈরি করেছে। সেই মিশ্রণ যে বেশ উপভোগ্য হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।




