ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ এক জয়ের পর ম্যাকাইতে এসে দুই দিনের মধ্যে টেস্ট হারল বাংলাদেশ। এই ম্যাচে নাজমুল হোসেন শিবিরের কাছ থেকে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই দেখা যায়নি। ফলে এমন হারের পর স্বাভাবিকভাবেই দলকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সংবাদ সম্মেলনে সেই সব প্রশ্নের মোকাবিলা করতে হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ককে, যেখানে তিনি সম্ভবত যথাসম্ভব সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। সাংবাদিকদের একটি প্রশ্ন ছিল, দুই দিনেই টেস্ট হেরে যাওয়ার পর বাকি তিন দিন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কী করবেন? জবাবে অল্প কথায় নাজমুল বলেন, 'ঘুমাব, শুয়ে থাকব।' ম্যাকাইয়ের এই টেস্টে বাংলাদেশের হার মূলত ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিye যায় দল, দ্বিতীয় ইনিংসেও ৯৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি। একই টেস্টের দুই ইনিংসে একশ'র কম রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের জন্য নতুন, আর টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এমনটি ঘটল ২১ বছর পর। দুই ইনিংসেই ব্যাটসম্যানদের এতটা নড়বড়ে অবস্থা ছিল যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ একদমই নিজেদের হাতে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। এই বাজে ব্যাটিংয়ের জন্য দলের ব্যর্থতা অস্বীকার করেননি নাজমুল, তবে উইকেটকেও দায়ী করেছেন তিনি। তার মতে, দ্বিতীয় ইনিংসে আরও একটু ভালো ব্যাটিং করা সম্ভব ছিল, কিন্তু প্রতিপক্ষের বোলাররাও যে কঠিন উইকেটে ভুগেছে সেটিও মানতে হবে। উইকেটটি বেশ কঠিন ছিল বলে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ব্যক্তিগত ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন নাজমুল। তিনি বলেন, দল হিসেবে ভালো ক্রিকেট খেলা হয়নি, ভালো ব্যাটিং হয়নি, ফলে কাউকে দোষারোপ করা সমীচীন নয়। নিজের ইনিংসটি লম্বা করা উচিত ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক এই টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে একাই নিয়েছেন ১০টি উইকেট। ম্যাচের প্রথম ঘণ্টাতেই ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে দিয়েছিলেন তিনি। তার সামনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ছিলেন অসহায়। তবে এমন কন্ডিশন ও বোলিংয়ের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাজমুল জানান, তিনি কোনো অজুহাত দিচ্ছেন না। নিয়মিত খেলা অনেক দলও এমন ধসে পড়তে পারে, তবে তারা অবশ্যই আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতেন।