রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর সিনেট প্যালেসে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়ি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বিশেষ চিঠি পুতিনের হাতে তুলে দিয়েছেন রেজায়ি। খামেনি এই বার্তাটি দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যদিও সামরিক পরিস্থিতির কারণে রেজায়ির সফরটি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। খামেনির চিঠির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হলেও, গত বুধবার খামেনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই এবং ইরানকে আরও শক্তিশালী হতে হবে।

বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। মোহসেন রেজায়ি জানান, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে পুতিনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, ইরান তার সাতটি নির্দিষ্ট শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে না এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না। অন্যদিকে, পুতিন যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার বিষয়ে ইরানকে পূর্ণ আশ্বাসের কথা জানিয়েছেন। এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকেও রুশ প্রেসিডেন্ট একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতা এই আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে ইরানে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা গুরুত্ব পেয়েছে। এই প্রকল্পের ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতে রুশ গ্যাস রপ্তানির নতুন পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছেন পুতিন। রেজায়ির মতে, আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে বাইরের দেশের হস্তক্ষেপ কাম্য নয় এবং এই বিষয়ে তারা চীনের সঙ্গে একমত।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং অভ্যন্তরীণভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় ইরানে হামলা নিয়ে নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাতারসহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা চলছে। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, তুরস্ক ও জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইরান ও রাশিয়া একটি সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যা ওই বছরের অক্টোবরে কার্যকর হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য, বিজ্ঞান এবং সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে, যদিও এতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহায়তার কোনো কথা নেই। এরই মধ্যে ইরানের সেনাবাহিনী আশা প্রকাশ করেছে যে, যুদ্ধ শেষ হলে তারা রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলো হাতে পাবে।