রাজধানীর ফার্মগেইট সংলগ্ন তেজগাঁও কলেজ মসজিদে এক গোপন বৈঠকের সময় জঙ্গি সন্দেহে আটক হওয়া ১২ জন যুবককে তিন দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার আদালতের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। রিমান্ডে নেওয়া ওই ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন শিহাব উদ্দিন, মারজুক আহমেদ, সাইফুর রহমান খান, রাম্মি মিয়া, কামিছুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, আফিফ আহমেদ, মোহাইমিনুল হক, জাওজি চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন, সাকিব আহমেদ এবং জুনায়েদ আহমেদ।

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের ইন্সপেক্টর আখতার মোর্শেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে শেরেবাংলা নগর থানার জিডি-র ভিত্তিতে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখান এবং প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করা, উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার এবং বড় ধরনের কোনো সহিংস ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা করে একদল যুবক তেজগাঁও কোকাকোলা মোড় এলাকায় একত্রিত হয়েছেন। এরপর সিটিটিসি, তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা ‘মিটআপ’ নামক একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য ছিলেন। এই গ্রুপের মাধ্যমেই তারা উগ্রবাদী আলোচনা এবং নাশকতামূলক কার্যক্রমের জন্য যোগাযোগ রক্ষা করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই উগ্রবাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এবং নরসিংদীর পলাশ থানায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা চলছে। এছাড়া মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও ডিজিটাল প্রমাণগুলো উদ্ধার করে সাইবার তথ্য বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও টেলিগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের আলাপচারিতা যাচাই করা এবং এই উগ্রবাদী কার্যক্রমের পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী, সহযোগী ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করতেই রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার এই আবেদনের পক্ষে যুক্তি দেখান, অন্যদিকে আসামিপক্ষ আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। সবশেষে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।