উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সম্প্রতি নবনির্মিত 'ডিফেন্স রেভল্যুশন মিউজিয়াম' বা প্রতিরক্ষা শিল্প জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-এর এক প্রতিবেদনে এই খবরের কথা জানানো হয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী রি সোল জু এবং কন্যা জু আয়ে উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাঁর আসন্ন এশিয়া সফরের সময় কিমের সঙ্গে বৈঠকের ইঙ্গিত দেওয়ার ঠিক একদিন পরেই এই সামরিক প্রদর্শনী পরিদর্শন করলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা। আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপিইসি) সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, এই জাদুঘরে কিমের শাসনকালে তৈরি বিভিন্ন ড্রোন এবং বিশেষ করে হোয়াসং-২০ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ আরও অনেক অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। 'কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরাম'-এর মহাসচিব শিন জং-উ জানিয়েছেন, হোয়াসং-২০ লঞ্চারের পাশে রাখা প্রদর্শনীতে একাধিক ওয়ারহেড বহন করার নকশা এবং একটি বিশ্ব মানচিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। উক্ত মানচিত্র অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ করার ক্ষমতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত।
শিন জং-উ-এর মতে, কিম জং উন তাঁর প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান উন্নয়ন কর্মসূচির যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা বিশ্ববাসীকে দেখাতেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শীর্ষ সম্মেলনের আগে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করতে এবং বিশেষ সুবিধা আদায় করতে এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সামরিক প্রদর্শনীকে একটি স্থায়ী রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন কিম। এই বিষয়ে 'কিয়ুংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজ'-এর অধ্যাপক লিম উল-চুল বলেন, আগে যেখানে সাময়িক অস্ত্র প্রদর্শনী করা হতো, এখন সেগুলোকে স্থায়ী জাদুঘরে রূপান্তর করে কিম তাঁর সামরিক অর্জনগুলোকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অর্জনকে একটি চূড়ান্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন।




