মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় এক অভিনব চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের সকল সদস্যকে অসুস্থ করে হাসপাতালে পাঠিয়ে সেই সুযোগে বাড়ি থেকে গয়না ও টাকা লুট করে নিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাইলজুরী গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাদের অজান্তেই খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক কোনো দ্রব্য মিশিয়ে দিয়েছিল অপরাধীরা, যার ফলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান রমজান আলী (৪০) দৌলতপুর উপজেলার কল্যাণপুর উচ্চবিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। তিনি জানান, গতকাল দুপুরের খাবার গ্রহণের পর তিনি, তার মা বেদেনা বেগম (৬২), স্ত্রী জাহানারা আক্তার (৩২) এবং তিন সন্তান—রাইয়ান হোসেন (১৪), রিদোয়ান হোসেন (১২) ও মাইশা আক্তার (১১)—সবাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের কিছু সদস্যের অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে তারা অচেতন হয়ে যান। পরে প্রতিবেশীরা উদ্যোগ নিয়ে সন্ধ্যায় তাঁদের সবাইকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পরিবারের ছয় সদস্যই হাসপাতালে থাকায় রাতে বাড়িটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ছিল। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা প্রথমে বাড়ির প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা দুটি কক্ষের তালা ভেঙে আলমারি, ওয়াড্রোব এবং লেপ-তোষকসহ যাবতীয় আসবাবপত্র তছনছ করে ফেলে। সেখান থেকে তারা ১ হাজার ১১০ টাকা এবং প্রায় ৯ ভরি ৬ আনা ওজনের দুটি রুপার নূপুর ও তিনটি আংটি চুরি করে নিয়ে যায়। শনিবার সকালে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে রমজান আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা তালা ভাঙা এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।
ঘটনার খবর পেয়ে আজ শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছেন। একই সময়ে পরিবারের সব সদস্যের অসুস্থ হয়ে পড়ার পেছনে কোনো রহস্য আছে কি না এবং এর সাথে চুরির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবারটি এই ঘটনায় থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।




