মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত 'পুলিশি' ভূমিকার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলে দাবি করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই কথা জানান। বৈঠকে পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার সক্ষমতা কেবল স্থানীয় দেশগুলোর মধ্যেই রয়েছে এবং তারাই এর প্রকৃত নিয়ন্ত্রক।
ইরানি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পেজেশকিয়ান শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের অবিচারের সম্মুখীন হলেও ইরান কোনো যুদ্ধ চায় না এবং বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়াতেও তারা আগ্রহী নয়। শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমানে তেহরানের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় আক্রমণ করে। একই সময়ে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। যেহেতু বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হয়, তাই এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রিক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাত এখন এক মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এই রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিশ্ববাজারে, যার ফলে চলতি সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।



