লা লিগার ম্যাচে নাটকীয় এক জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এলচের মাঠে গতকাল রাতে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে মরিনিওর দল। তবে জয়টা সহজে আসেনি—ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতার শঙ্কা ছিল। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল এবং এলচের আত্মঘাতী গোলে ৩৩ মিনিটের মধ্যে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। কিন্তু ৭১ ও ৮৩ মিনিটে দুই গোল হজম করে পয়েন্ট ভাগের আশঙ্কায় পড়ে যায় তারা।
বিপদ বুঝে ৮৭ মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডকে তুলে এস্পিকে মাঠে নামান মরিনিও। চার মিনিট পরেই ফল পান তিনি। এমবাপ্পের পাস থেকে যোগ করা সময়ের (৯০+১) প্রথম মিনিটে গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে জেতান এস্পি। গোলের পর এমবাপ্পের সঙ্গে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
এটি যে এস্পির জন্য নতুন ঘটনা নয়, তা বোঝা যায় তার রিয়াল ক্যারিয়ার দেখলেই। মরিনিও দ্বিতীয় মেয়াদে কোচ হয়ে ফেরার পর এসপানিওলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে অভিষেকেই ৯০ মিনিটে জয়সূচক গোল করেছিলেন তিনি। এবারও সেই একই দৃশ্য—শেষ মুহূর্তে এসে জেতালেন দলকে। পরিসংখ্যান বলছে, লা লিগায় চলতি মৌসুমে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৯০ মিনিট বা তার পরে দুইটি জয়সূচক গোল করেছেন এস্পি। পুরো লিগের ইতিহাস বিচারে অবশ্য তিনি দ্বিতীয় স্থানে—ভিয়ারিয়ালের আয়োজে পেরেজের পর তিনিই দ্বিতীয় খেলোয়াড়, যিনি দলের প্রথম ছয় ম্যাচে ৯০ মিনিট বা তার পরে দুইটি জয়সূচক গোল করলেন।
গত জুলাইয়ে লেভান্তে থেকে আড়াই কোটি ইউরোর বিনিময়ে রিয়ালে যোগ দেন এস্পি। লেভান্তের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বিক্রি হিসেবে রেকর্ড গড়ে তিনি। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির এই ২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে মূলত ‘প্ল্যান বি’ হিসেবে ভাবছিলেন মরিনিও। নিয়মিত খেলোয়াড়দের দিয়ে গোল আদায় সম্ভব না হলে তখন এস্পিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা ছিল তার। আর সেই পরিকল্পনাই যে কাজে দিচ্ছে, তা এলচের বিপক্ষে আবার প্রমাণ হলো।
ম্যাচ শেষে মরিনিও বলেন, এস্পি দারুণ উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে নেমেছে। তবে তার সামনে যে খেলোয়াড় ছিল—এমবাপ্পে—সে সাধারণ কেউ নয়। দুজনকে একসঙ্গে খেলানো সহজ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শেষ দিকে তিনি যে সব পরিবর্তন এনেছেন, তাতে ঝুঁকি নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। কারণ, তার মতে, ড্র রিয়ালের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরও দল দুই গোল হজম করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন মরিনিও। তিনি বলেন, কিছু ম্যাচে মনে হয় ফল ঠিক হয়ে গেছে, কিন্তু দল নিজেদের কাজ শেষ না করায় সহজ ম্যাচগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ কথা বলতে গিয়ে তিনি এলচের বিপক্ষে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে এই জয়ে লা লিগায় অবনমনে থাকা দলের বিপক্ষে মরিনিওর অপরাজেয় যাত্রা অটুট থাকল। ক্যারিয়ারে লা লিগায় অবনমনের মুখে থাকা কোনো দলের বিপক্ষে তিনি কখনো হারেননি। এলচ তালিকার তলানিতে থাকা দল হলেও এদিন শেষ পর্যন্ত জয়ই পেলেন তিনি।
এই জয়ে ৬ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দুই নম্বরে রিয়াল মাদ্রিদ। ৫ ম্যাচের সবকটি জিতে সমান ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা—গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় হান্সি ফ্লিকের দল শীর্ষে।



