কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় দুই দশক আগে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করল আদালত। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচা ও ভাতিজাকে হত্যার দায়ে আব্দুল মমিন নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও চার আসামিকে তিন বছর করে কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. জয়নাল আবেদীন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি (এপিপি) তারিকুর রহমান তারিক জানান, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মমিন (৫২) উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি গ্রামের অধিবাসী। তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা পরিশোধ করতে না পারলে তাকে আরও এক বছর জেল খাটতে হবে। অন্যদিকে, তিন বছরের সাজা পাওয়া আমিনুল ইসলাম (১৯), সিদ্দিক বলী (৩৬), সফিকুল ইসলাম (২৫) এবং আবু বক্কর (৩০)-এর প্রত্যেকেই একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক মাস কারাবাস ভোগ করতে হবে তাদের। তবে এই মামলায় মাইদুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, হোসেন আলী এবং হাসেন আলী নামের চার আসামি খালাস পেয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর কাশিয়াবাড়ি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের সময় প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় জালাল উদ্দিন (৫৫) এবং তার ভাতিজা খলিলুর রহমান (২০) গুরুতর আহত হন। ঘটনার তিন দিন পর, ৩০ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন জালাল উদ্দিন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০০৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খলিলুর রহমান। এই ঘটনার পর জালাল উদ্দিনের ছোট ভাই মো. আব্দুর রউফ রৌমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ ২০ বছর পর আসা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এপিপি তারিকুর রহমান তারিক। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, রায় ঘোষণার সময় আসামিরা উপস্থিত ছিলেন না। মামলার আসামিপক্ষ হয়ে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।




